মঠবাড়িয়ায় দুই মাসে ঝরল ১৯ প্রাণ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় গত দুই মাসে হত্যা, আত্মহত্যা, বজ্রপাত, মাটিধস, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ও পানিতে ডুবে শিশুসহ ১৯ জন নারী-পুরুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একের পর এক এসব ঘটনায় পুরো উপজেলায় উদ্বেগ ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

এর মধ্যে দুটি হত্যাকাণ্ড এবং মাটি চাপায় দুইজনের মৃত্যুর ঘটনা সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দেয়। গত ২৪ মে ধানীসাফা ইউনিয়নের ফুলঝুড়ি গ্রামের ইউসুফ শরীফ এবং একই দিনে টিকিকাটা ইউনিয়নের পশ্চিম সেনের টিকিকাটা গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ুম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এছাড়া ৩০ মে আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামে মাটি চাপা পড়ে রশিদ ব্যাপারী ও সাগর হাওলাদারের মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানায়, রশিদ ব্যাপারী ও সাগর হাওলাদার ম্যাগনেটিক পিলারের সন্ধানে মাটি খুঁড়তে গিয়ে মাটি ধসে মারা যান। তবে প্রথমে বিষয়টি হত্যাকাণ্ড হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে তদন্ত করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে পুলিশ।

অন্যদিকে ইউসুফ শরীফ প্রকাশ্যে হত্যার শিকার হন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আরাফাত নামে এক যুবক তাকে কুপিয়ে হত্যা করেন। অপরদিকে কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ুমকে তার মা মিনারা বেগম কুঠার দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পুলিশ জানায়, কাইয়ুমের মা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

এছাড়া গত দুই মাসে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। বলেশ্বর নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হাসান মোল্লার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আত্মহত্যা করেছেন সুখী রানী, খালেদা বেগম, শাহাদাৎ হোসেন, বেবী বেগম ও রাকিবসহ কয়েকজন।

পানিতে ডুবে মারা গেছে কয়েকজন শিশু। তাদের মধ্যে রয়েছে দেড় বছরের আলভী, ১৭ মাস বয়সী রায়হান গাজী এবং চার বছর বয়সী ইসা। এছাড়া ভেচকী গ্রামে পানিতে ডুবে দুই সহোদর আব্দুর রহমান (৮) ও আব্দুর রহিম (৩)-এর মৃত্যু হয়।

বজ্রপাতে উত্তর সোনাখালী গ্রামের সোহরাব জমাদ্দার, গাছ চাপায় রিয়াজ হাওলাদার এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নির্মাণশ্রমিক আব্দুল কুদ্দুসের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম জানান, বিভিন্ন ঘটনার তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ করেছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।