মার্কিন বন্ডের মুনাফা বৃদ্ধি এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে টানা তৃতীয় দিনের মতো কমেছে সোনার দাম। দরপতনের ধারাবাহিকতায় মূল্যবান এই ধাতুর দাম গত আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৪৯ মিনিট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৭৪ দশমিক ৭৫ ডলারে নেমে আসে। এর আগে মঙ্গলবারের লেনদেনে সোনার দাম কমে গত নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন ৩ হাজার ৯৪২ দশমিক ৯৯ ডলারে পৌঁছেছিল।
একই সময়ে আগস্টে সরবরাহযোগ্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৮৭ দশমিক ৭০ ডলারে নেমেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সুদের হার বাড়লে সাধারণত সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনার আকর্ষণ কমে যায়। এ কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সোনা বিক্রির প্রবণতা বেড়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর প্রথমবারের মতো ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে লোকসানের মুখে পড়ে সোনা।
এদিকে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে বড় ধরনের বিক্রির কারণে ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের মুনাফা বেড়েছে। বুধবার তা আরও ৪ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৪ দশমিক ৪৬৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে শক্তিশালী মার্কিন ডলারের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য সোনা কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ব্যাংক ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভানি স্টাউনোভো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের এক কর্মকর্তার মন্তব্যের পর সুদের হার বাড়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এর ফলে সোনার মতো সুদবিহীন সম্পদের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমেছে। তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সোনাভিত্তিক এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) থেকেও বিনিয়োগকারীরা অর্থ তুলে নিচ্ছেন, যা বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বর্তমানে বাজারের নজর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জুন মাসের এডিপি কর্মসংস্থান প্রতিবেদন এবং বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রকাশিতব্য নন-ফার্ম পেরোলস প্রতিবেদনের দিকে। এসব তথ্য ফেডের পরবর্তী সুদের হার নীতির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে। এ ছাড়া ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) বার্ষিক সিন্ট্রা সম্মেলনও বিনিয়োগকারীদের নজরে রয়েছে। সেখানে ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ ও ইসিবি প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্ড বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার নতুন করে তৈরি হওয়া ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তাও বাজারে প্রভাব ফেলছে। এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭ দশমিক ৭৫ ডলারে নেমেছে। প্ল্যাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৪২ দশমিক ৭০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ১৮৭ দশমিক ১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।