ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্পের (তৃতীয় পর্যায়) আওতায় রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মাছ চাষের প্রদর্শনী কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শনী খামারে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।
পীরগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা কাওসার হোসেনের তত্ত্বাবধানে প্রথমে ১৫ নম্বর কাবিলপুর ইউনিয়নের বিষ্ণপুর এলাকায় মিজানুর রহমানের এক একর পুকুরে এক হাজার চিতল মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। পরে ৭ নম্বর বড় আলমপুর গ্রামের আতোয়ার রহমান মেম্বারের এক একর পুকুরে ১০ হাজার পাবদা মাছের পোনা ছাড়া হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা কাওসার হোসেন, বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রায়হান বিপ্লব, সদস্য মোস্তফা জামান, রতন সরকার এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রান্তিক পর্যায়ের মৎস্য চাষিদের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্তমানে আটটি প্রদর্শনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে চারটি প্রকল্পে আধুনিক এয়ারেটর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব প্রকল্পের আওতায় বিষ্ণপুরে চিতল, বড় আলমপুরে পাবদা, ধুলগাড়ীতে শাহীনা বেগমের পুকুরে মাগুর এবং টুকুরিয়া গ্রামের শাহ আলম মিয়ার পুকুরে পাঙ্গাস মাছের চাষ করা হচ্ছে।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কাওসার হোসেন জানান, চলমান আটটি প্রকল্পের পাশাপাশি আরও পাঁচটি নতুন প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিটি প্রদর্শনী প্রকল্পে সরকারিভাবে ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট চাষিরা নিজস্ব অর্থায়নে অতিরিক্ত এক থেকে দেড় লাখ টাকা বিনিয়োগ করবেন।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব প্রকল্প সফল হলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, স্থানীয় পর্যায়ে প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ হবে এবং মৎস্য চাষিদের আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।