ভারতের গুজরাটের কুচ বিভাগে আগাম কোনো নোটিশ না দিয়ে তিনটি মসজিদ ও কয়েকটি মাজারসহ মোট ৩০টি স্থাপনা ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৩০ জুন) দ্য হিন্দুস্তান গ্যাজেটের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুচ বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় চালানো অভিযানে ৩০টি অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১১টি ধর্মীয় স্থাপনা, ১৭টি বাণিজ্যিক স্থাপনা এবং দুটি আবাসিক স্থাপনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন এক সরকারি কর্মকর্তা।
ঘটনার পর জমিয়ত ই-উলামা হিন্দের একটি প্রতিনিধি দল কুচ বিভাগ পরিদর্শন করে। প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির নেতা মাওলানা হাকিমুদ্দিন কাশমী। তিনি অভিযোগ করেন, কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই মসজিদগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলেও সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
ভাঙা স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে জুনা কান্দলা মসজিদ। মসজিদটির খাদেমের দাবি, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে এসে মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয়। তিনি বলেন, ওই সময় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের আটক করা হতে পারত। স্থানীয়দের দাবি, জুনা কান্দলা মসজিদটি ১৯৬৫ সাল থেকে ওয়াকফ রেজিস্ট্রিভুক্ত ছিল। সুন্দর নির্মাণশৈলীর কারণে এটি স্থানীয়দের কাছে পরিচিত একটি ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত হতো।
মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সামার অভিযোগ করেন, মসজিদ ভাঙার সময় তারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন এবং ঘটনাস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তাদের সেখানে যেতে দেওয়া হয়নি। বরং বাধা দেওয়া ও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় আদিপুর এলাকার একটি মসজিদও ভাঙা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ অভিযানের বিস্তারিত কারণ বা আইনি ভিত্তি সম্পর্কে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভাঙা স্থাপনাগুলোর মধ্যে ধর্মীয়, বাণিজ্যিক ও আবাসিক—বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো ছিল। ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।