নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ৩৭ শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছেন। এ ঘটনায় এক সেনাসদস্য, এক শিক্ষকসহ অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (২৯ জুন) বোরনো রাজ্যের লাসা শহরের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ হামলা চালানো হয়। হামলার সময় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিল। ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা রয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর থেকে অন্তত ৩৭ শিক্ষার্থীর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় ১০ জন শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে একজন শিক্ষক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
বোরনো রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী লাওয়ান আব্বা ওয়াকিলবে জানিয়েছেন, বর্তমানে ২৫ জন ছাত্রী, ১১ জন ছাত্র এবং একজন শিক্ষক সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে আটক রয়েছেন। তবে বিদ্যালয়ের উপাধ্যক্ষসহ আটজনকে মুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার কাউন্সিলর ইজাগলা ইজাবিলা নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছেন। একটি গোয়েন্দা সূত্রও নিখোঁজের সংখ্যা ও পরিস্থিতি সম্পর্কে একই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নাইজেরিয়ার সংঘাতপ্রবণ উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে শিক্ষার্থীদের অপহরণ দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় সমস্যা। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থী অপহরণ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একটি সাধারণ কৌশলে পরিণত হয়েছে।
এর আগে ২০১৪ সালে জঙ্গিগোষ্ঠী বোকো হারামের সদস্যরা চিবোক শহর থেকে শত শত স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে। ওই ঘটনা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এরপরও নাইজেরিয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অপহরণের ঘটনা বন্ধ হয়নি।
গত মে মাসেও বোরনো রাজ্যের একটি গ্রাম থেকে ৪০ জনের বেশি শিক্ষার্থী অপহরণের ঘটনা ঘটে। একই মাসে দেশটির অন্য একটি রাজ্যের তিনটি বিদ্যালয় থেকেও কয়েক ডজন শিক্ষার্থীকে অপহরণ করা হয়।
২০০৯ সাল থেকে সশস্ত্র বিদ্রোহের বিরুদ্ধে লড়াই করছে নাইজেরিয়া। গত এক বছর ধরে দেশটিতে আবারও হামলা ও অপহরণের ঘটনা বেড়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি এসব হামলা।