ভারতের জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী জেসমিন ভাসিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। দুবাই সফরের সময় হঠাৎ তীব্র পেটব্যথা অনুভব করলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তার ক্ষুদ্রান্ত্রের শেষ অংশে সংক্রমণ শনাক্ত করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, ক্ষুদ্রান্ত্রের শেষ অংশে এ ধরনের সংক্রমণ নিজে কোনো স্বতন্ত্র রোগ নয়; বরং এটি বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে। এর পেছনে দীর্ঘমেয়াদি অন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ, ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের সংক্রমণ, দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন, যক্ষ্মা, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জটিলতা কিংবা বিরল ক্ষেত্রে ক্যানসারও দায়ী হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, এ সমস্যার সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে তলপেটের ডান পাশে তীব্র ব্যথা, ডায়রিয়া, বমি বা বমিভাব, জ্বর, দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা, ওজন কমে যাওয়া এবং কখনও মলের সঙ্গে রক্তপাত।
রোগের কারণ নির্ণয়ে সাধারণত রক্ত ও মল পরীক্ষা, অন্ত্রের বিশেষ পরীক্ষা, বিভিন্ন ধরনের স্ক্যান এবং প্রয়োজন হলে টিস্যু পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া হয়। কারণ শনাক্ত হওয়ার পর সেই অনুযায়ী চিকিৎসা পরিকল্পনা করা হয়।
চিকিৎসকদের মতে, ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ হলে ওষুধের মাধ্যমে অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে দীর্ঘমেয়াদি অন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ থাকলে নিয়মিত চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হয়। জটিল পরিস্থিতিতে অস্ত্রোপচারেরও প্রয়োজন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সময়মতো চিকিৎসা না নিলে অন্ত্রে স্থায়ী ক্ষতি, অপুষ্টি, রক্তস্বল্পতা, ওজন হ্রাস, অন্ত্রে বাধা সৃষ্টি এবং অন্যান্য গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই কয়েকদিন ধরে তীব্র পেটব্যথা, ডায়রিয়া, বারবার বমি, জ্বর, মলে রক্ত, অস্বাভাবিক ওজন কমে যাওয়া বা পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। প্রয়োজনে এটিকে আরও বিনোদনভিত্তিক বা স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিবেদনের ঢংয়েও রূপান্তর করা যেতে পারে।