কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফিরলেন প্রতারণার শিকার আরও ১০৯ জন

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬

কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার হওয়া আরও ১০৯ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এ নিয়ে চলতি জুন মাসে কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন মোট ৫৮৩ বাংলাদেশি।

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাত ১টা ২৫ মিনিটের দিকে দেশে পৌঁছানো এসব বাংলাদেশিকে বিমানবন্দরে সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি, প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ও ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের যৌথ উদ্যোগে জরুরি সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে ফেরার জন্য আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কম্বোডিয়ায় নেওয়া হয়েছিল। লক্ষ্মীপুরের এক ভুক্তভোগী জানান, একটি রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালাল চক্র তাকে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরির আশ্বাস দিয়েছিল। এ জন্য তিনি ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে ছাড়পত্রও নিয়েছিলেন।

তবে কম্বোডিয়ায় যাওয়ার পর তাকে মাত্র এক মাসের ভিজিট ভিসা দেওয়া হয়। পরে কোনো বৈধ কাজের ভিসার ব্যবস্থা না করে তাকে একটি সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। আরেক ভুক্তভোগী জানান, তাদের বিদেশি নাগরিকদের লক্ষ্য করে অনলাইন প্রতারণা করতে বাধ্য করা হতো। নির্ধারিত টার্গেট পূরণ করতে না পারলে মারধর, শারীরিক নির্যাতন এমনকি বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হতো। স্ক্যাম সেন্টারের ভেতরে নির্যাতনের জন্য আলাদা কক্ষও ছিল বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, সম্প্রতি কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালালে প্রতারক চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায় এবং তারা মুক্তি পান। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, সাইবার স্ক্যাম বর্তমানে মানবপাচারের একটি ভয়ংকর রূপ হিসেবে দেখা দিয়েছে। উন্নত দেশে ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের বিদেশে নিয়ে গিয়ে অনলাইন প্রতারণায় বাধ্য করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জুন মাসে ৫৮৩ জনের দেশে ফেরা প্রমাণ করে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি এ ধরনের পাচারকারী চক্রের শিকার হয়েছেন। ইতোমধ্যে কয়েকজন ভুক্তভোগী মামলা করেছেন। বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে প্রায় ১৫ হাজার ৯২১ বাংলাদেশি কাজের উদ্দেশ্যে কম্বোডিয়ায় গেছেন। তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, এখনো কয়েক হাজার বাংলাদেশি সেখানে প্রতারণার শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

ব্র্যাক জানিয়েছে, পাচারকারী চক্র ভুয়া ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আকর্ষণীয় চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে প্রলুব্ধ করে। পরে তাদের স্ক্যাম সেন্টারে নিয়ে গিয়ে জিম্মি করে প্রতারণামূলক কাজে বাধ্য করা হয়। সংস্থাটি বিদেশে যাওয়ার আগে চাকরির প্রস্তাব, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ও ভিসার ধরন যাচাই করার পাশাপাশি সরকারি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্য নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।