এবার একাকীত্ব দূর করবে মানুষসদৃশ রোবট

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর মানুষের মতো দেখতে নতুন মানুষসদৃশ রোবট উন্মোচন করেছে চীনের একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। একাকীত্ব কমানো, মানসিক সঙ্গ দেওয়া এবং দৈনন্দিন জীবনে সহকারী হিসেবে কাজ করার লক্ষ্যেই রোবটটি তৈরি করা হয়েছে। উদ্বোধনের দিনেই এর ১৩ হাজারের বেশি অর্ডার পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সংবাদসংস্থা এএফপি জানায়, মঙ্গলবার (৩০ জুন) চীনের শেনজেনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নতুন এই রোবট উন্মোচন করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এটি বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ মানুষসদৃশ রোবট, যা বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি রোবটটির তিনটি সংস্করণ বাজারে এনেছে। উন্মোচনের দিনেই ১৩ হাজার ৩৬১টির বেশি অর্ডার পাওয়ায় প্রযুক্তিপণ্যটির প্রতি বাজারের আগ্রহের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে বিপজ্জনক, কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলোতে রোবট ব্যবহার করা হবে। পরবর্তীতে এটি মানুষের ব্যক্তিগত সহকারী, মানসিক সঙ্গী এবং পরিবারের সদস্যদের সহযোগী হিসেবে কাজ করবে। ভবিষ্যতে মানুষ ও রোবটের মধ্যে আরও স্বাভাবিক ও আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।

নতুন রোবটটিতে মানুষের মতো নরম কৃত্রিম চামড়া, বাস্তবসম্মত মুখের অভিব্যক্তি এবং শান্ত কণ্ঠস্বর ব্যবহার করা হয়েছে। এটি মানুষের আবেগ বিশ্লেষণ করে সেই অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, রোবটটি ২০টির বেশি ধরনের আবেগ শনাক্ত করতে সক্ষম এবং এ ক্ষেত্রে এর নির্ভুলতার হার ৯০ শতাংশেরও বেশি। এছাড়া এটি দীর্ঘমেয়াদি কথোপকথনের তথ্য মনে রাখতে পারে এবং আগের তথ্যের ভিত্তিতে স্বাভাবিকভাবে মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারে।

রোবটটি শুধু মানসিক সঙ্গ দেওয়ার জন্য নয়; বয়স্কদের সেবা, মানসিক সহায়তা, অতিথি গ্রহণ, পর্যটন, শিক্ষা, গবেষণা এবং ঘরের বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যাবে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

অনুষ্ঠানে আরও ঘোষণা দেওয়া হয়, একা বসবাসকারী বয়স্ক ব্যক্তি, বাবা-মা থেকে দূরে থাকা শিশু এবং অসহায় পরিবারের জন্য চলতি বছর ১০০টি বিশেষ মানুষসদৃশ রোবট বিনামূল্যে দেওয়া হবে। এসব রোবটে নির্দিষ্ট ব্যক্তির মুখ ও কণ্ঠস্বরের আদলে বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে, যাতে ব্যবহারকারীরা দীর্ঘমেয়াদি মানসিক সঙ্গ পেতে পারেন। একই সঙ্গে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং তথ্যের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে ব্যবহারকারীর হাতেই থাকবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের দৈনন্দিন জীবনে এ ধরনের মানুষসদৃশ রোবট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।