হঠাৎ তুরস্কের রাস্তা থেকে গায়েব ১২ লাখ কুকুর, ঘটনা কী

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

তুরস্কজুড়ে পথকুকুর ধরার অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ কুকুর আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। একই সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্র বা অন্য কোথাও আইনবহির্ভূতভাবে কুকুর হত্যা করা হচ্ছে—এমন অভিযোগও সরাসরি নাকচ করেছে কর্তৃপক্ষ।

তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপদেষ্টা আহমেত ইয়াভুজ কারাচা দেশটির পার্লামেন্টের কৃষি, বন ও গ্রামীণ বিষয়ক কমিটিকে জানান, বর্তমানে দেশটিতে আনুমানিক ১২ লাখ ৫০ হাজার পথকুকুর রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১২ লাখ কুকুর ইতোমধ্যে উদ্ধার করে সরকারি তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয়েছে, যা মোট পথকুকুরের প্রায় ৭৮ শতাংশ। তিনি বলেন, আগে দেশটিতে পথকুকুরের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ বলে ধারণা করা হলেও সরকারি জরিপে প্রকৃত সংখ্যা অনেক কম পাওয়া গেছে।

কারাচা জানান, রাস্তাঘাট থেকে উদ্ধার করা কুকুরগুলোকে চিকিৎসা, বন্ধ্যাকরণ ও পুনর্বাসনের পর আশ্রয়কেন্দ্র অথবা সরকার নির্ধারিত ‘প্রাকৃতিক আবাসস্থলে’ রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, কেবল প্রাণী সুরক্ষা আইন (আইন নম্বর ৫১৯৯)-এ নির্ধারিত বিশেষ পরিস্থিতিতেই কুকুরকে ইউথেনেশিয়া বা কষ্টহীন মৃত্যু দেওয়া হয়। আইনে নির্ধারিত শর্ত ছাড়া আশ্রয়কেন্দ্র বা প্রাকৃতিক আবাসস্থলে কোনো ধরনের ইউথেনেশিয়া কার্যক্রম পরিচালিত হয় না বলেও দাবি করেন তিনি।

তুরস্কে পথকুকুর নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। ২০২৪ সালে দেশটির সরকার একটি আইন পাস করে, যার আওতায় পৌরসভাগুলোকে পথকুকুর ধরে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। ক্ষমতাসীন ন্যায় ও উন্নয়ন পার্টি (একেপি) এবং তাদের জোটসঙ্গী জাতীয়তাবাদী আন্দোলন পার্টির (এমএইচপি) সমর্থনে পাস হওয়া ওই আইনে বিপজ্জনক, মরণাপন্ন কিংবা দত্তক নেওয়ার অনুপযুক্ত কুকুরকে ইউথেনেশিয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তবে প্রাণী অধিকার সংগঠন এবং প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি) এই আইনকে ‘গণহত্যার আইন’ বলে সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র ও কার্যকর তদারকির অভাবে আইনটির অপব্যবহার হতে পারে এবং এর আড়ালে ব্যাপকহারে পথকুকুর হত্যা করা হচ্ছে।

অবশ্য এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আহমেত ইয়াভুজ কারাচা বলেন, অনেক মানুষ কুকুর দত্তক নেওয়ার পর আবার সেগুলো রাস্তায় ছেড়ে দেন। এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি আরও জানান, তুরস্কের নয়টি মহানগরে পথকুকুর সংগ্রহ কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে আরও ১০ থেকে ১১টি মহানগরে এ কার্যক্রম নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে বলে সরকারের আশা।