স্বাস্থ্যখাত ঢেলে সাজাচ্ছে সরকার, বিনামূল্যে প্রাথমিক সেবা পাবে তৃণমূলের মানুষ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

দেশের মানুষের জন্য মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যখাত ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রাজধানী ও বড় শহরকেন্দ্রিক চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানো হবে। এর ফলে চিকিৎসার জন্য গ্রামের মানুষকে আর শহরমুখী হতে হবে না বলে আশা করছে সরকার।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। এসব হাসপাতালে সার্বক্ষণিক জরুরি বিভাগ, ইনডোর ও আউটডোর সেবা, আধুনিক প্যাথলজি সুবিধা এবং আইসিইউ সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করতে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে একজন নারী ও একজন পুরুষ ফিজিওথেরাপিস্টের পদ রাখা হবে।

এ ছাড়া প্রতিটি ইউনিয়ন ও শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব ইউনিটে সাধারণ রোগের চিকিৎসা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যাবে। ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা হেলথ স্ক্রিনিং কার্যক্রমও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

তিনি জানান, ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির আলোকে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য স্বাস্থ্যখাতে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে মোট ৬৯ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা দেশের জিডিপির ১ দশমিক ১ শতাংশ। এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৪ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

সরকার প্রত্যেক নাগরিককে ই-হেলথ কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনাও নিয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে দেশের যেকোনো হাসপাতালের চিকিৎসক রোগীর পূর্ববর্তী চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধের তথ্য জানতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী জেলায় ২৫ লাখ ই-হেলথ কার্ড বিতরণের পাইলট প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত জানান, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে শিগগিরই ৫ হাজার চিকিৎসক ও ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার জানান, আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রতিটি ইউনিয়নে দুজন করে মিডওয়াইফ থাকলে মাতৃস্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য হবে।

তিনি আরও জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও কুমিল্লা বিভাগে ২০০ শয্যার পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যখাতে টেকসই পরিবর্তন আনতে হলে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের অবকাঠামো শক্তিশালী করতে হবে। বিশেষ করে ইউনিয়ন পর্যায়ে কার্যকর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।