চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার আলীনগর মৌজার পাহাড়তলী এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে রাস্তা নির্মাণের ঘটনাকে ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এক পক্ষের অভিযোগ, তাদের পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে অপর পক্ষের দাবি, এটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য নির্ধারিত রাস্তা এবং জনস্বার্থে তা নির্মাণ করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী দাবি করা শফিকুল আলমসহ ১২ জন গত ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, মো. বুলবুল, মো. জহির, মো. সরোয়ার, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. তারেকসহ অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জন দীর্ঘদিন ধরে বিরোধপূর্ণ জমি দখলের চেষ্টা করে আসছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২২ জুন সকাল ১০টার দিকে বিবাদীরা বহিরাগত লোকজন নিয়ে কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই জমিতে প্রবেশ করে রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করেন। বাধা দিলে তারা সরকারি নির্দেশনার কথা বললেও কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। এ সময় বাদীপক্ষকে মারধর এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে বিবাদীপক্ষ জানায়, তাদের কাছে থাকা সিট (মানচিত্র) ও দলিল অনুযায়ী বিরোধপূর্ণ স্থানে একটি জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা রয়েছে। তাদের দাবি, তারা কারও ব্যক্তিগত বা সরকারি জমি দখল করছেন না; বরং দীর্ঘদিনের চলাচলের দুর্ভোগ দূর করতে নিজ উদ্যোগে রাস্তা নির্মাণের কাজ করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এক পক্ষ জমিটিকে ব্যক্তিগত ফসলি জমি দাবি করলেও অপর পক্ষ সেটিকে জনসাধারণের চলাচলের পথ হিসেবে দাবি করছে। এ পরিস্থিতিতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যে কোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
বিষয়টি সমাধানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও এখনো কোনো সমাধান হয়নি। বর্তমানে বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছে এবং উভয় পক্ষ প্রশাসনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।