মুরাদনগরে সরকারি সড়কের ওপর ভবন সম্প্রসারণের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের

মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার নবীপুর (পশ্চিম) ইউনিয়নের উত্তর ত্রিশ এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা সরকারি সড়কের আকাশসীমার দিকে সম্প্রসারণ করে নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ভবনের সম্প্রসারিত অংশ রাস্তার ওপর চলে আসায় ভবিষ্যতে যান চলাচল, সড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণ এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আজিমিয়া এতিমখানা সড়কের উত্তর ত্রিশ এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনটির ওপরের দুই তলা নিচতলার সীমানার বাইরে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এর একটি অংশ সরকারি সড়কের আকাশসীমার মধ্যে চলে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলেও প্রশাসন বলছে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি এলাকাবাসীর গুরুত্বপূর্ণ চলাচলের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভবনের ওপরের অংশ রাস্তার দিকে বাড়িয়ে নির্মাণ করা হলে সড়কের কার্যকর প্রশস্ততা কমে যেতে পারে। এতে বড় যানবাহন চলাচল, বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ লাইনের রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভবিষ্যতের সড়ক উন্নয়নকাজে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পৃক্ততার কারণে অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না। তারা প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ভবনটির মালিক মৃত আলফাজ আলীর ছেলে আল-আমীন, যিনি খাগড়াছড়িতে কর্মরত একজন পুলিশ কনস্টেবল। অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি আমার মালিকানাধীন জায়গার মধ্যেই ভবন নির্মাণ করছি। কিছু অংশ রাস্তার দিকে এসেছে। রাস্তার অধিকাংশই আমার জায়গার ওপর রয়েছে।”

তবে নির্মাণকাজ অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী হচ্ছে কি না এবং রাস্তার ওপর ভবনের অংশ সম্প্রসারণের বৈধতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে সংবাদকর্মীকে ভবিষ্যতে যোগাযোগ না করার কথা বলেন।

এ বিষয়ে নবীপুর (পশ্চিম) ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বলেন, অভিযোগটি তার নজরে এসেছে। সরেজমিনে তদন্ত করে যদি সরকারি রাস্তা বা নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।

মুরাদনগর উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণ জানান, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) অনুযায়ী নির্ধারিত সীমানা ও প্রয়োজনীয় খালি জায়গা রেখে ভবন নির্মাণ করতে হয়। তিনি বলেন, উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় থেকে ওই ভবনের কোনো নকশা বা নির্মাণ অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবিএম সারোয়ার রাব্বি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বা বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে সরেজমিনে তদন্ত করা হবে। সরকারি সড়কের ওপর নির্মাণ বা অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের মতে, এটি শুধু একটি ভবন নির্মাণের বিষয় নয়; বরং জনস্বার্থ, সড়কের নিরাপত্তা এবং নির্মাণবিধি প্রতিপালনের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট। তাই দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত অবস্থা নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।