বাগেরহাটের রামপালে অনুমোদনহীন ও অনিরাপদ চিপস খেয়ে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনিরাপদ খাদ্যপণ্য বিক্রির প্রমাণ পাওয়ায় দোকান মালিক মনোরঞ্জন মন্ডলকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার দোকান সিলগালা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে উপজেলার বড়দূর্গাপুর গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের ওই দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ তামান্না ফেরদৌসি। আদালত এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
এর আগে সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে বড়দূর্গাপুর দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের পাশের দোকান থেকে খোলা চিপস কিনে খায়। পরে তাদের মধ্যে ১২ জন অসুস্থ হয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, চিপসগুলো ডিটারজেন্টের প্যাকেটসদৃশ মোড়কে বিক্রি করা হচ্ছিল।
অসুস্থ শিক্ষার্থীদের পেটে ব্যথা, বমি ও শারীরিক অস্বস্তি দেখা দিলে শিক্ষক ও অভিভাবকরা দ্রুত তাদের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রস্থ মৈত্রী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীকে বাড়ি পাঠানো হয়।
মৈত্রী হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সাকিব রেজোয়ান জানান, খাদ্যে বিষক্রিয়ার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ১২ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১১ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। গুরুতর অসুস্থ এক শিক্ষার্থীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।
বড়দূর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবাংশু রায় বলেন, প্রশাসন দোকানটি বন্ধ করে দিয়েছে। বর্তমানে অসুস্থ সব শিক্ষার্থীই সুস্থ রয়েছে।
রামপাল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার বলেন, শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের সহযোগিতায় দোকানটি সিলগালা করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি অভিভাবকদের শিশুদের জন্য বাইরের খাবার কেনার ক্ষেত্রে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামান্না ফেরদৌসি বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দোকানটি সিলগালা করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তিনি অভিভাবক ও সাধারণ জনগণকে শিশুদের জন্য অনুমোদিত ও নিরাপদ খাদ্যপণ্য কেনা এবং খাদ্যের মেয়াদ ও মান যাচাই করে ব্যবহারের পরামর্শ দেন।