সাঁওতাল বিদ্রোহের ১৭১তম দিবস উপলক্ষে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে সরকারি কর্মকর্তা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সুধীজন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
সকালে উপজেলার নির্ধারিত স্থান থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা সাঁওতাল বিদ্রোহের ইতিহাস, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের বিভিন্ন বার্তাসংবলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন।
র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. মুর্শিদা খাতুন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রেজাউল করিম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান মণ্ডলসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় সুধীজন।
র্যালি শেষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ১৮৫৫ সালের সাঁওতাল বিদ্রোহ ছিল উপমহাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গণঅভ্যুত্থান। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন, জমিদারি শোষণ ও মহাজনী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সিধু মুর্মু, কানু মুর্মু, চাঁদ মুর্মু এবং ভৈরব মুর্মুর নেতৃত্বে সাঁওতাল জনগোষ্ঠী ঐতিহাসিক এই বিদ্রোহ গড়ে তোলে।
বক্তারা আরও বলেন, সাঁওতাল বিদ্রোহের ইতিহাস ও আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভূমির অধিকার, সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।
অনুষ্ঠানে শহীদ সাঁওতাল বীরদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পাশাপাশি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা।
প্রতি বছর ৩০ জুন সাঁওতাল বিদ্রোহের স্মরণে দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো নওগাঁর নিয়ামতপুরেও নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়। এবারের আয়োজনেও র্যালি ও আলোচনা সভার মাধ্যমে বিদ্রোহের ইতিহাস, আত্মত্যাগ এবং এর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।