তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় প্রত্যয়, তিস্তাপাড়ে আনন্দের জোয়ার

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এই ঘোষণার পর তিস্তা অববাহিকার মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনকারীরা এ ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার বক্তব্য প্রচারিত হলে রংপুর অঞ্চলের তিস্তাপাড়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্ষা মৌসুমের অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে কৃষকদের সেচ নিশ্চিত করতে সরকার ‘পদ্মা ব্যারেজ’ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। একইসঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকার যে কোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। তিনি আরও বলেন, উত্তরাঞ্চল, বিশেষ করে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের মানুষের পানি সংকট এবং তিস্তা নদী-সংক্রান্ত উদ্বেগ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং এর স্থায়ী সমাধানে কাজ করবে।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও তিস্তা আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল বলেন, মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত একটি রোডম্যাপ তৈরি এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করা জরুরি।

রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামছুজ্জামান সামু বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি, অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে খরা মৌসুমে পানির সংকট এবং বর্ষায় বন্যা পরিস্থিতিও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ‘তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও’ সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদী এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগের অন্যতম কারণ। তাই দ্রুত প্রকল্পটির অনুমোদন ও বাস্তবায়ন শুরু হওয়া প্রয়োজন।

তিস্তাপাড়ের বাসিন্দারাও এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, প্রতিবছর বর্ষায় নদীভাঙন ও বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে তীব্র পানিসংকটে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়। মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এসব সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ কমে ৮০০ থেকে এক হাজার কিউসেকের মধ্যে নেমে আসে। অন্যদিকে বর্ষাকালে পানির প্রবাহ কয়েক লাখ কিউসেকে পৌঁছে বন্যা ও নদীভাঙনের ঝুঁকি সৃষ্টি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে কৃষি, সেচ এবং নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, উত্তরাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় এ অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। এখন দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।