ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারের নানামুখী উদ্যোগ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

রাজধানীর জলাবদ্ধতা সমস্যা স্থায়ীভাবে নিরসনে দখল হওয়া খাল উদ্ধার, পরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ, নর্দমা ও বক্স কালভার্ট থেকে পলিথিন ও বর্জ্য অপসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় পানি নিষ্কাশন সক্ষমতা বাড়াতে আরও দুটি নতুন আউটলেট নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রস্তাব ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ভারী বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাগুলো থেকে পোর্টেবল পাম্প এবং বিদ্যমান পাম্প স্টেশনের মাধ্যমে দ্রুত পানি অপসারণ করা হবে।

তিনি বলেন, নগরীর বৃষ্টির পানি দ্রুত আশপাশের নদীতে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে পরিকল্পিতভাবে কাজ চলছে এবং শিগগিরই এর সুফল পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান জানান, নগরীর খালগুলো থেকে ভাসমান বর্জ্য ও পলি অপসারণের কাজ চলমান রয়েছে। ডিএনসিসির আওতাধীন ২৯টি খাল দখলমুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতার হটস্পটগুলোতে পানি অপসারণে সাড়ে তিনশর বেশি কর্মী কাজ করছেন।

ডিএসসিসি সূত্র জানায়, বর্তমানে কমলাপুর টিটিপাড়া, ধোলাইখাল ও হাতিরঝিলে তিনটি আউটলেট রয়েছে। এসব আউটলেট দিয়ে প্রায় ১০৯ দশমিক ২৪ বর্গকিলোমিটার এলাকার পানি নিষ্কাশন হয়, যা নগরীর বর্তমান চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। এ কারণে নতুন দুটি আউটলেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘মেট্রো ঢাকা রেজিলিয়েন্স প্রকল্প’-এর আওতায় গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত একটি বড় নর্দমা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। শ্যামপুর খালের পানি বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রবাহিত করতে বক্স কালভার্ট ও বড় ব্যাসের নর্দমা নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলছে।

ডিএসসিসি জানায়, নিউমার্কেট, গ্রিন রোড, শান্তিনগর, মুগদা মেডিকেল, পশ্চিম মালিবাগসহ প্রায় ৩৩টি জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ২২টি খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে পরিষ্কার ও পুনঃখনন কার্যক্রম চলছে। চারটি বক্স কালভার্ট পরিষ্কার এবং ওয়ার্ডভিত্তিক নর্দমা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন, খাল দখল, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে ঢাকার জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুয়েটের ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড ফ্লাড ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. সাইফুল ইসলাম বলেন, জলাবদ্ধতা কমাতে নদী ও খালগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম জরুরি।

পরিবেশবিদরাও মনে করছেন, খাল দখলমুক্ত করা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা ছাড়া ঢাকার জলাবদ্ধতা সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।