গাছের পাতায় মিলল আধুনিক শহর তৈরির গোপন নকশা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

পড়ার টেবিলের কোণে বা বারান্দার টবে রাখা ছোট্ট চাইনিজ মানি প্ল্যান্টকে অনেকেই কেবল শৌখিন গাছ হিসেবে চেনেন। তবে এই সাধারণ গাছের পাতার মধ্যেই লুকিয়ে আছে এমন এক জটিল গাণিতিক নকশা, যা আধুনিক শহরের রাস্তা, স্কুল, হাসপাতাল কিংবা মোবাইল নেটওয়ার্কের পরিকল্পনায় ব্যবহৃত হয়। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা গাছটির পাতায় সেই বিস্ময়কর নকশার সন্ধান পেয়েছেন। গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী Nature Communications-এ।

গবেষণায় দেখা গেছে, চাইনিজ মানি প্ল্যান্টের পাতার প্রধান শিরাগুলো ভোরোনয় (Voronoi) ডায়াগ্রাম নামে পরিচিত একটি বিশেষ জ্যামিতিক বিন্যাস অনুসরণ করে। এই গাণিতিক পদ্ধতিতে একটি এলাকা এমনভাবে ভাগ করা হয়, যাতে প্রতিটি অংশ নির্দিষ্ট একটি কেন্দ্রবিন্দুর সবচেয়ে কাছাকাছি থাকে। একই ধারণা বর্তমানে নগর পরিকল্পনা, মোবাইল ফোনের টাওয়ার বসানো, আবহাওয়া বিশ্লেষণ, রোবটের চলাচল এবং কম্পিউটার গ্রাফিক্সে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এই আবিষ্কারের সূচনা হয় বেশ কৌতূহলোদ্দীপকভাবে। যুক্তরাষ্ট্রের কোল্ড স্প্রিং হারবার ল্যাবরেটরির গবেষক এলাইজা ব্লুম নিজের বোনের চাইনিজ মানি প্ল্যান্টের যত্ন নেওয়ার সময় পাতার শিরাগুলোর দিকে তাকিয়ে ভোরোনয় ডায়াগ্রামের সঙ্গে আশ্চর্যজনক মিল খুঁজে পান। পরে তিনি বিষয়টি কম্পিউটার বিজ্ঞানী সাকেত নাভলাখার সঙ্গে ভাগ করে নিলে শুরু হয় বিস্তারিত গবেষণা।

গবেষকরা দেখেছেন, পাতার কিনারায় থাকা হাইডাথোড নামের ক্ষুদ্র ছিদ্র থেকে অক্সিন হরমোন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন দিক থেকে আসা এই হরমোনের প্রবাহ যেখানে মিলিত হয়, সেখানে তৈরি হয় সীমারেখা। সময়ের সঙ্গে সেই সীমারেখাই পরিণত হয় পাতার প্রধান শিরায়। অর্থাৎ কোনো পরিমাপ ছাড়াই প্রকৃতি নিজেই এক নিখুঁত গাণিতিক নকশা তৈরি করে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এটি প্রথম গবেষণা যেখানে শুধু ভোরোনয় ডায়াগ্রামের উপস্থিতিই নয়, বরং উদ্ভিদের পাতায় এই নকশা কীভাবে স্বাভাবিকভাবে তৈরি হয়, তার জৈবিক প্রক্রিয়াও ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই আবিষ্কার শুধু উদ্ভিদবিজ্ঞানেই নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে না; ভবিষ্যতে সৌর প্যানেল, ইলেকট্রনিক সার্কিট, পরিবহন ব্যবস্থা এবং আরও দক্ষ প্রকৌশল নকশা তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণাটি আবারও মনে করিয়ে দিল, প্রকৃতির সাধারণ বলে মনে হওয়া প্রতিটি সৃষ্টি কখনো কখনো বিজ্ঞানের সবচেয়ে জটিল রহস্যও নিজের ভেতরে ধারণ করে।