ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ‘ছোট কুড়িপাইকা শহীদ বীর শ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’-এর প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বৈরাচারী আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী তার অপসারণ এবং বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে তারা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে গণস্বাক্ষরযুক্ত লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক প্রায় দুই দশক ধরে একই বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকায় সেখানে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন একই স্থানে দায়িত্ব পালনের সুযোগে তিনি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করেছেন এবং জবাবদিহিতার পরিবেশ নষ্ট করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি প্রভাব খাটিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিতে (SMC) নিজের আত্মীয়-স্বজন ও ঘনিষ্ঠদের অন্তর্ভুক্ত করে একটি পক্ষভিত্তিক কমিটি গঠন করেন, যার ফলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হচ্ছে।
লিখিত অভিযোগে প্রধান কয়েকটি অভিযোগের মধ্যে রয়েছে— বিদ্যালয়ের উন্নয়ন বরাদ্দ, স্লিপ (SLIP) ফান্ড এবং অন্যান্য সরকারি অর্থ নামমাত্র কাজ দেখিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ; নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকা এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলা; বিদ্যালয়ে পক্ষ-বিপক্ষ সৃষ্টি করে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা, যা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে; এবং রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়দের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ।
এলাকাবাসীর পক্ষে মো: মাহবুবুল ভূঁইয়া মহসিন, মো: রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, আয়েত আলী, মোহাম্মদ আলী, নাজির মিয়াসহ অনেকেই এই অভিযোগে স্বাক্ষর করেছেন। তাদের দাবি, প্রধান শিক্ষকের কথিত অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
অভিভাবকরা বলেন, বীর শ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের নামে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ের সুনাম কোনো ব্যক্তির অনিয়মের কারণে নষ্ট হতে দেওয়া যায় না। তারা দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
অভিযোগপত্রের অনুলিপি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সংশ্লিষ্ট উপপরিচালক এবং আখাউড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এখন প্রশাসনের দ্রুত ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা।