স্বামীর ড্রাইভারকে প্রেম করে বিয়ে, পরে গলা ও রগ কেটে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ঘুমের ওষুধ খাইয়ে গলা ও দুই হাতের রগ কেটে স্বামীকে হত্যার অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বলে ধারণা করা রক্তমাখা একটি চাপাতি ও একটি ছুরিও জব্দ করা হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) বেলা ১১টার দিকে ফতুল্লার দেলপাড়া এলাকার চানাচুর ফ্যাক্টরি গলির একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জাহাঙ্গীর আলম জনি (৪১) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলের বারে কর্মরত ছিলেন। গ্রেপ্তার হওয়া ফারজানা আক্তার মুন্নি (৪৫) তার স্ত্রী।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জনি একসময় মুন্নির প্রথম স্বামীর ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে কাজ করতেন। ওই সময় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে প্রায় পাঁচ বছর আগে মুন্নি প্রথম স্বামীর সংসার ছেড়ে জনিকে বিয়ে করেন। এরপর তারা ফতুল্লার দেলপাড়ার চানাচুর ফ্যাক্টরি গলিতে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। তাদের সংসারে একটি সন্তান রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সম্প্রতি অন্য এক নারীর সঙ্গে জনির সম্পর্ক রয়েছে—এমন সন্দেহ থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। এ নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর আলম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুন্নি পুলিশকে জানিয়েছেন, রোববার রাতে খাবারের সঙ্গে পাঁচটি ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে স্বামীকে খাওয়ান। এরপর গভীর রাতে তিনি পূর্বপরিকল্পিতভাবে চাপাতি দিয়ে জনির গলা কেটে এবং দুই হাতের রগ কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জনির মরদেহ উদ্ধার করে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বলে ধারণা করা রক্তমাখা চাপাতি ও ছুরি জব্দ করা হয় এবং অভিযুক্ত স্ত্রী ফারজানা আক্তার মুন্নিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওসি মাহাবুবুর আলম বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। হত্যার পেছনের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য যাচাই করে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।