দিনাজপুর সদর উপজেলার শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলমের উদ্যোগে উপজেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বহুতল একাডেমিক ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পে মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী (ডেস্ক-১) মো. মেহেদী ইকবাল স্বাক্ষরিত অনুমোদনপত্র সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পরিচালন বাজেটের আওতায় অনাবাসিক ভবন নির্মাণ ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের অধীনে দিনাজপুর সদর উপজেলার পরজপুর ফাজিলা ডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়, শংকরপুর মহাবিদ্যালয় এবং দাইনুর ইসলামিয়া দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসায় বহুতল একাডেমিক ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, ভবন নির্মাণের প্রস্তুতি হিসেবে প্রেরিত জরিপ ফরম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে ভবনের ক্যাটাগরি নির্ধারণ করে আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে জরিপ প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় তথ্য ইইডির আরপিএমএস (RPMS) সার্ভে ট্যাবে আপলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচিত স্থানে স্ট্রাকচারাল ডিজাইন শাখার পরামর্শ অনুযায়ী মাটি পরীক্ষা (সয়েল টেস্ট) সম্পন্ন করে তার প্রতিবেদন আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে প্রধান কার্যালয়ে পাঠানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষের মতে, নতুন একাডেমিক ভবন নির্মিত হলে শিক্ষার্থীরা আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা পরিবেশ পাবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের শ্রেণিকক্ষ সংকটও অনেকাংশে দূর হবে।
এ বিষয়ে দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “শিক্ষা জাতির উন্নয়নের মূল ভিত্তি। আমার নির্বাচনী এলাকায় শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি। নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি দিনাজপুর সদরের সার্বিক উন্নয়নেও আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।”
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরপরই নির্মাণকাজ শুরু হবে এবং কাজের মান নিশ্চিত করতে কঠোর তদারকি করা হবে।
এই অনুমোদনের খবরে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নে এ উদ্যোগ শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং উন্নত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।