তিস্তা প্রকল্পে ঢাকার পাশে বেইজিং, ভারতের উদ্বেগ নিয়ে চীনের জবাব

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬

তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প (টিআরসিএমআরপি) বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে চীন। একই সঙ্গে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ঢাকা ও বেইজিং যৌথভাবে কাজ করতে সম্মত হয়েছে।

তবে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এ উদ্যোগ নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ জানিয়েছে ভারত। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও তিস্তা প্রকল্পে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে চীন। দেশটি জানিয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এটি তৃতীয় পক্ষের প্রভাবমুক্ত থাকা উচিত। বেইজিংয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের উদ্বেগ নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এসব কথা বলেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, তিস্তা অববাহিকা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলের কাছাকাছি হওয়ায় ঢাকা-বেইজিংয়ের এই যৌথ উদ্যোগ নিয়ে ভারতের আগ্রহ ও উদ্বেগ রয়েছে। গুও জিয়াকুন বলেন, “চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এটি তৃতীয় পক্ষের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা উচিত।”

তিনি বলেন, তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার একটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, যা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রকল্পে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে চীন প্রস্তুত রয়েছে। চীনের মুখপাত্র আরও বলেন, উন্নয়ন কৌশলের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বাড়াতে চীন আগ্রহী। পাশাপাশি বাণিজ্য ও অর্থনীতি, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে কাজ করতে চায় বেইজিং।

এদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, তিস্তা প্রকল্পের ওপর দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা প্রথমবারের মতো কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এ বিষয়ে ঢাকা ও বেইজিং একমত হয়েছে। তিনি বলেন, সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনের যৌক্তিকতার ভিত্তিতে চীন প্রকল্পটিতে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিস্তা নদীসহ বাংলাদেশের অন্যান্য নদীর ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ ও চীন একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। এ অবস্থায় তিস্তা প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশের যেকোনো নতুন পদক্ষেপ ও ঘোষণার দিকে নজর রাখবে ভারত।