ভারতের মুম্বাইয়ে তাজিয়া মিছিলে ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষকে হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগে ফাইয়াজ প্রেমজি নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, গত ২৬ জুন তাজিয়া মিছিলে বিষাক্ত ক্যাপসুল বিতরণের মাধ্যমে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। তবে স্বেচ্ছাসেবকদের তৎপরতায় তার পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারের পর ফাইয়াজকে জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, পুনেতে নিজের বাড়ির আশপাশে ইঁদুরের উপদ্রব থেকে এই ধরনের বিষাক্ত ক্যাপসুল তৈরির পরিকল্পনা করেন ফাইয়াজ। ক্যাপসুলে ব্যবহার করা জিঙ্ক ফসফাইড মূলত ইঁদুর মারার বিষ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, জিঙ্ক ফসফাইড মানুষের শরীরে কী ধরনের ক্ষতি করতে পারে, তা জানতে ফাইয়াজ গুগল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে গবেষণা করেছিলেন। পরে তিনি ৩০ হাজার খালি ক্যাপসুল এবং ৫০ কেজি জিঙ্ক ফসফাইড সংগ্রহ করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
৩৯ বছর বয়সী ফাইয়াজ প্রেমজি পুনের বিমান নগরের বাসিন্দা। তিনি বিমান নগরের কোনার্ক নগর টাউনশিপের একটি বাড়িতে থাকতেন। তার বাবা একটি রঙের কারখানার মালিক এবং ফাইয়াজ সেখানে কাজ করতেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ফাইয়াজ ১৯ বার বিদেশ ভ্রমণ করেছেন। এর মধ্যে মাত্র ১৯ দিনের ব্যবধানে তিনবার ইরান সফর করেছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ। তার এসব ভ্রমণ ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে এখন পর্যন্ত তার সঙ্গে কোনো আন্তর্জাতিক চক্র বা বিদেশি ষড়যন্ত্রের যোগসূত্রের আনুষ্ঠানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। ফাইয়াজের প্রতিবেশীদের দাবি, স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের সময় ফাইয়াজের কাছ থেকে প্রায় ১৫ হাজার বিষাক্ত ক্যাপসুল উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি এসব ক্যাপসুল বিতরণের বিষয়টিকে ‘মহৎ কাজ’ হিসেবে প্রচার করে আরও কয়েকজনকে এতে যুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন।