চাঁদপুরে সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকে চুরি, বাধা দেওয়ায় খুন হলেন ফাতেমা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬

প্রতিদিনের মতো ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য শাশুড়িকে ডাকতে গিয়েছিলেন বড় ছেলের স্ত্রী। কিন্তু বারবার ডাকলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া মিলছিল না। পরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকতেই চোখে পড়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকা বৃদ্ধা ফাতেমা বেগমের নিথর দেহ। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সোমবার (২৯ জুন) ভোররাতে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার পাথৈর ইউনিয়নের বেরকোটা গ্রামের মিয়াজী বাড়িতে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত ফাতেমা বেগম (৭৫) ওই গ্রামের মৃত সাদেক মিয়াজীর স্ত্রী। তার স্বামী পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা ছিলেন। তিন ছেলে ও দুই মেয়ের জননী ফাতেমা বেগম ঘটনার সময় বাড়িতে একাই অবস্থান করছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার (২৮ জুন) রাত সাড়ে ৯টা থেকে সোমবার ভোর ৪টার মধ্যে কোনো এক সময় সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা ঘরের পশ্চিম পাশ দিয়ে সিঁদ কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। চুরির সময় ফাতেমা বেগম বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার থুতনি, নাক ও গলায় এলোপাতাড়ি আঘাত করে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে ঘরে থাকা প্রায় দেড় ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ টাকা লুট করে পালিয়ে যায় তারা।

পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো ফজরের নামাজের আগে বড় ছেলের স্ত্রী শাশুড়িকে ডাকতে গিয়ে কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের খবর দেন। পরে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে রক্তাক্ত অবস্থায় ফাতেমা বেগমের মরদেহ দেখতে পান। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ঘটনাস্থলে জড়ো হন।

নিহতের জামাতা মিজানুর রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমাদের পরিবারের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষটিকে এভাবে হারাতে হবে কখনো ভাবিনি। যারা এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাই।’

খবর পেয়ে কচুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কচুয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হাই, কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলাম এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হাই জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।