নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের পলাশহাটি গ্রামে সরকারি খাস (হালট) জমিতে পানি নিষ্কাশনের নালা নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার কলমাকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
অভিযুক্ত হিসেবে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে কালা মিয়া পোগলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি হালট দখলে থাকায় এলাকার বিলের পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত হতে পারছে না। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুতুরা–আমবাড়ী সড়কের পলাশহাটি গ্রামের শামছুর পুকুরপাড় সংলগ্ন ব্রিজ থেকে রোজ আলীর বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি নালা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের কাজ শুরু হলে সরকারি জমিতে দখল করে রাখা আনোয়ার হোসেন জায়গা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান এবং নালা নির্মাণে বাধা দেন। এতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে পলাশহাটি গ্রামের শাহীন শেখ বিজয় উল্লেখ করেন, নালা নির্মাণ নিয়ে গণমাধ্যমে তথ্য প্রকাশের উদ্যোগের পর গত ২৮ জুন দুপুরে তার বাবা সাহাব উদ্দিনের ওপর আনোয়ার হোসেন ও তার সহযোগীরা হামলা চালান। এতে সাহাব উদ্দিন আহত হন এবং পরে তাকে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অভিযোগে প্রাণনাশের হুমকির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কলমাকান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ শামীম বলেন, উন্নয়নমূলক কাজে বাধা এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ উদ্বেগজনক। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
কলমাকান্দা থানার ওসি (তদন্ত) সজল সরকার জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পোগলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব মো. নজরুল ইসলাম বলেন, পলাশহাটি মৌজার ৫৫ নম্বর দাগে ৪৬ শতক জমি সরকারি খাস হালট হিসেবে রেকর্ডভুক্ত। ওই জমিতে দখল ও স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চলছে।
এদিকে কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. মিকাইল ইসলাম বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিন পরিদর্শন করে সরকারি জমি খালি করার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশনা অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।
তবে অভিযুক্ত মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে কালা মিয়া দাবি করেন, ওই জমি দীর্ঘদিন ধরে তাদের দখলে রয়েছে এবং সেখানে নালা খননের প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, নালা করলে তাদের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাই তারা সেখানে কাজ করতে দেবেন না।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি জমি উদ্ধার করে দ্রুত নালা নির্মাণ না করা হলে বর্ষা মৌসুমে আবারও জলাবদ্ধতা ও ফসলহানির শঙ্কা তৈরি হবে।