বিশ্বকাপ শুরুর আগে কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার নাম খুব একটা পরিচিত ছিল না ফুটবলপ্রেমীদের কাছে। তবে টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে এখন তিনি বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত ফুটবলার। ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দের ইতিহাস গড়ার পেছনে বড় ভূমিকা রাখা এই গোলরক্ষকের সামনে এবার পূরণ হতে যাচ্ছে দীর্ঘদিনের এক স্বপ্ন।
মাত্র ছয় লাখেরও কম জনসংখ্যার দেশ কেপ ভার্দে এবারের বিশ্বকাপে চমক দেখিয়ে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিয়েছে শেষ ৩২-এ। গ্রুপ পর্বে স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের মতো শক্তিশালী দলকে পেছনে ফেলে ইতিহাস গড়েছে দলটি। আর এই সাফল্যের অন্যতম কারিগর ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনিয়া।
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে দুর্দান্ত গোলকিপিং করেন তিনি। একের পর এক অসাধারণ সেভ করে স্পেনকে গোল করতে না দিয়ে দলকে গোলশূন্য ড্র এনে দেন। সেই ম্যাচের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে আলোচনায় উঠে আসে তার নাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেড়েছে তার জনপ্রিয়তা; ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা এখন ১ কোটি ৭০ লাখের বেশি।
এবার নকআউট পর্বে কেপ ভার্দের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী ৪ জুলাই শেষ ৩২-এর ম্যাচে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে দলটি। আর এই ম্যাচেই পূরণ হতে পারে ভোজিনিয়ার বহুদিনের স্বপ্ন—নিজের প্রিয় ফুটবলার লিওনেল মেসির বিপক্ষে মাঠে নামার।
বিশ্বকাপের আগে ভোজিনিয়া জানিয়েছিলেন, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলা তার সবচেয়ে বড় ইচ্ছাগুলোর একটি। বিশেষ করে মেসির বিপক্ষে মাঠে নামার স্বপ্নের কথা বলেছিলেন তিনি। তার ভাষায়, “আমার কাছে সর্বকালের সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি। আমি তার বিপক্ষে খেলতে চাই। সুযোগ হলে তার জার্সিটাও সংগ্রহ করতে চাই।” তিনি আরও বলেছিলেন, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে পারলে সেটি হবে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা। মেসির মতো একজন কিংবদন্তির বিপক্ষে মাঠে নামা তার কাছে স্বপ্নের মতো।
ভোজিনিয়ার জীবনের সঙ্গে আর্জেন্টিনার রয়েছে আরেকটি মজার যোগসূত্র। তার অফিসিয়াল নাম জোসিমার হলেও, জন্মের সময় তার বাবা ছেলের নাম রাখতে চেয়েছিলেন ‘ভালদানো’। ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির প্রতি ভালোবাসা থেকেই সেই নাম বেছে নিয়েছিলেন তিনি। তবে স্থানীয় নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের অনুমতি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত নামটি রাখা সম্ভব হয়নি।
নাম না হলেও ভাগ্য যেন শেষ পর্যন্ত ভোজিনিয়াকে আর্জেন্টিনার সামনেই এনে দাঁড় করিয়েছে। কেপ ভার্দের এক অচেনা গোলরক্ষক থেকে বিশ্বকাপের আলোচিত নায়ক হয়ে ওঠা এই ফুটবলারের সামনে এখন নিজের গল্পকে আরও বড় করার সুযোগ। মঞ্চ প্রস্তুত, প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা, আর সামনে সেই স্বপ্নের ফুটবলার লিওনেল মেসি।