অশ্রুভেজা কণ্ঠে না বলা গল্প শোনালেন ভিনিসিয়ুস

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬

বিশ্বকাপের উত্তেজনার মাঝেই আবেগঘন এক মুহূর্তের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে দাদি নিলজার আবেগময় বার্তা শুনে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। শৈশবের স্মৃতি, পরিবারের ত্যাগ, বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন এবং বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান—সবকিছুই উঠে আসে তার আবেগমাখা কথায়।

অনুষ্ঠানে ভিনিসিয়ুস জানান, ছোটবেলায় তার বাবা বেশিরভাগ সময় বাড়ির বাইরে থাকতেন। ফলে মা, ভাইবোন এবং দাদির সান্নিধ্যেই তার বেড়ে ওঠা। ছোট্ট একটি ঘরে দাদির পাশে ঘুমিয়ে কাটানো অসংখ্য রাত আজও তার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতিগুলোর একটি।

শৈশবের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমাদের বাড়িটি খুব ছোট ছিল। অসংখ্য রাত আমি তার পাশেই ঘুমিয়েছি। সত্যি বলতে আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। তিনি আমার জীবনে এমন এক ছাপ রেখে গেছেন, যা কখনো মুছে যাবে না।”

মৃত্যুর অনিবার্য বাস্তবতার প্রসঙ্গ টেনে ব্রাজিলিয়ান এই তারকা বলেন, “আমি জানি, একদিন মানুষ চলে যায়। তাই আমি তার সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত যতটা সম্ভব হৃদয়ে ধরে রাখতে চাই।” ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড পরিবারের ত্যাগের কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, নিজের স্বপ্ন পূরণে তার পরিবার মানুষের পক্ষে যা সম্ভব, সবই করেছে। তাই তাদের মুখে হাসি ফোটাতে পারাই তার কাছে জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।

ব্যক্তিগত অনুভূতির পাশাপাশি ব্রাজিলের বিশ্বকাপ মিশন নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ভিনিসিয়ুস। তার বিশ্বাস, বর্তমান প্রজন্মের খেলোয়াড়রা আবারও ব্রাজিলকে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসনে ফিরিয়ে নিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বপ্নই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।

বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। ভিনিসিয়ুস বলেন, তার ছোট ভাইসহ আগামী প্রজন্ম যেন কোনো ধরনের বর্ণবাদ বা বৈষম্যের শিকার না হয়, সেটিই তার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা। মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি কৃষ্ণাঙ্গ শিশুদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠাকেও তিনি নিজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলে মনে করেন।

এ সময় ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির প্রশংসা করে ভিনিসিয়ুস বলেন, তার অধীনে অভিজ্ঞ ও তরুণ খেলোয়াড়দের মধ্যে দারুণ সমন্বয় গড়ে উঠেছে। এই সমন্বয় বিশ্বকাপে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।