পটুয়াখালীর খেপুপাড়া খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে বদলির আদেশ জারির চার মাস পার হলেও এখনো দায়িত্ব গ্রহণ না করার ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান ও দায়িত্ব গ্রহণ বাধ্যতামূলক হলেও কেন সেই বিধান কার্যকর হয়নি, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সচেতন মহলে নানা আলোচনা চলছে।
এর আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বদলি আদেশ বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা, প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা এবং অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছিল। সেই প্রতিবেদন প্রকাশের পরও কার্যকর কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২ মার্চ ২০২৬ তারিখে শান্তি রঞ্জন দাসকে খেপুপাড়া খাদ্য গুদামে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দায়িত্ব গ্রহণ সম্পন্ন হয়নি। অথচ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বদলি নীতিমালায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান ও দায়িত্ব গ্রহণের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, এই দীর্ঘ বিলম্বের পেছনে প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতা এবং আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।
পটুয়াখালী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. নাসির উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তবে নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম হওয়ার পরও কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
বরিশাল আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক নকিব সাদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। নির্দেশনা পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের প্রশ্ন—সরকারি বিধিমালা যদি সময়মতো কার্যকর না হয়, তাহলে প্রশাসনিক জবাবদিহি কোথায়? একই সঙ্গে তারা দাবি জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।