আলগা চুল পড়া পছন্দ হয়নি, তাই হবু স্বামীকে হত্যা! 

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬

ভারতের পুণের ব্যবসায়ী কেতন অগ্রবাল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সিয়া গয়ালের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্যে সিয়া দাবি করেছেন, পরিবারের কাছে বিয়ে করতে রাজি নন—এ কথা বলার চেয়ে কেতনকে পথ থেকে সরিয়ে দেওয়াই তার কাছে সহজ মনে হয়েছিল।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ জুন লোণবলার লোহাগড় দুর্গে ঘুরতে গিয়ে কেতন অগ্রবালকে পাহাড়ের ওপর থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় সিয়া গয়াল ও তার প্রেমিক চেতন চৌধরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে হত্যার পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও ঘটনার বিস্তারিত জানতে এখনও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে সিয়া আরও দাবি করেন, কেতন আলগা চুল (উইগ বা হেয়ার প্যাচ) ব্যবহার করতেন, যা তার অপছন্দ ছিল। এ বিষয়ে আগে থেকেই জানার পরও কেন বিয়েতে সম্মতি দিয়েছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরিবারের সম্মান ও সামাজিক ভাবমূর্তির কথা ভেবেই বিয়েতে রাজি হতে বাধ্য হয়েছিলেন।

পুলিশের দাবি, সিয়া আরও জানিয়েছেন যে তিনি কেতনকে বিয়ে করতে পারবেন না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু কেতন বিয়ে ভাঙতে রাজি না হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। এরপরই প্রেমিক চেতন চৌধরীর সঙ্গে মিলে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তকারীদের ধারণা।

তবে এসব দাবি নাকচ করে দিয়েছেন নিহত কেতনের বাবা বিশাল অগ্রবাল। তিনি বলেন, তার ছেলে আলগা চুল ব্যবহার করতেন—এ তথ্য সিয়ার পরিবার আগে থেকেই জানত। বিষয়টি নিয়ে কখনও সিয়া বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি জানানো হয়নি। তাই আলগা চুলকে হত্যার কারণ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে তদন্তে আরও জানা গেছে, সিয়া ও চেতন চৌধরীর প্রেমের সম্পর্কের বিষয়ে দুই পরিবারই অবগত ছিল। কিন্তু আর্থিক অবস্থার পার্থক্যের কারণে সিয়ার পরিবার সেই সম্পর্ক মেনে নেয়নি। তদন্তকারীদের ধারণা, চেতনের কাছ থেকে সিয়াকে দূরে রাখতে কেতন অগ্রবালের সঙ্গে তার বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেই পারিবারিক সিদ্ধান্তই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের দিকে গড়ায়।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সিয়া ও চেতনকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সিয়ার ভাই সাহিল গয়ালকেও জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা।