সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাল কাগজপত্র তৈরি করে হিন্দু সম্প্রদায়ের বসতভিটা ও জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শতাধিক পরিবার প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে মানববন্ধন করেছেন।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ১১টায় শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ভুক্তভোগীদের মধ্যে বক্তব্য দেন কুমারেশ গায়েন, মোহন গায়েন, সাবিত্রী গায়েনসহ অনেকে।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা রেকর্ডভুক্ত জমি ও বসতভিটা দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তারা জানান, প্রায় ৫০ বছর ধরে তারা ওই জমিতে বসবাস ও চাষাবাদ করে আসছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, গোপালপুর গ্রামের ভোলানাথ গাইনের ছেলে অরবিন্দু গাইন ও মলয় কুমার গাইনের মালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক দখলের উদ্দেশ্যে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ভুরুলিয়া এলাকার মৃত আমানত গাজীর ছেলে মুজিবুল হকের নেতৃত্বে একটি দল হামলার চেষ্টা চালায়।
তাদের অভিযোগ, অভিযুক্তদের মধ্যে মোস্তফা, আব্দুল্লাহ গার্জী, ইমান আলী, আইয়ুব আলীসহ ১৫-২০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ শুরু করে। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে শ্যামনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যায়। পরে পুলিশ ট্রাক্টর সরিয়ে দিয়ে চাষাবাদ বন্ধ করে দেয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, গোপালপুর মৌজার জে.এল নং ২৫-এর বি.আর.এস খতিয়ানভুক্ত ১৬১, ৮৪, ৮৫ ও ৮৬ দাগে থাকা মোট ৪ দশমিক ৩২ একর জমি তারা দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন।
তাদের আরও অভিযোগ, মো. মুজিবুল হক জাল কাগজপত্র তৈরি করে ওই জমির মালিকানা দাবি করছেন এবং ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। পাশাপাশি জমি দখলের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন।