১৭ বছর পরও ভক্তদের হৃদয়ে অমর পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসন

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬

বিশ্বসংগীতের ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পী মাইকেল জ্যাকসনের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৯ সালের এই দিনে মাত্র ৫০ বছর বয়সে পৃথিবী ছেড়ে চলে যান ‘পপসম্রাট’ খ্যাত এই কিংবদন্তি শিল্পী। তবে মৃত্যুর ১৭ বছর পরও বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন তিনি।

১৯৫৮ সালের ২৯ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেন মাইকেল জ্যাকসন। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি আগ্রহী ছিলেন তিনি। ১৯৬৪ সালে ভাইদের সঙ্গে ‘জ্যাকসন ফাইভ’ ব্যান্ডের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে সংগীতজগতে যাত্রা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে একক শিল্পী হিসেবে তিনি বিশ্বসংগীতের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্রে পরিণত হন।

১৯৭১ সালে একক ক্যারিয়ার শুরু করার পর আশির দশকে সংগীতের দুনিয়ায় একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন মাইকেল। তার ব্যতিক্রমী কণ্ঠ, নতুন ধারার সংগীত, অসাধারণ নৃত্যশৈলী এবং মঞ্চ পরিবেশনা তাকে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যায়। এ সময় থেকেই তার নামের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুক্ত হয় ‘পপসম্রাট’ উপাধি।

দীর্ঘ সংগীতজীবনে মাইকেল জ্যাকসন উপহার দিয়েছেন অসংখ্য কালজয়ী গান। তার বিখ্যাত ‘মুনওয়াক’ নৃত্যশৈলী শুধু বিনোদনের অংশ ছিল না, বরং তা বিশ্বসংস্কৃতির একটি অনন্য প্রতীক হয়ে ওঠে।

২০০৯ সালের ২৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন মাইকেল জ্যাকসন। তার আকস্মিক মৃত্যু বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া তৈরি করে। মৃত্যুর পর তার চিকিৎসক কনরাড মারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে অতিরিক্ত মাত্রায় চেতনানাশক প্রয়োগের বিষয়টি উঠে আসে। পরে অবহেলার কারণে অনিচ্ছাকৃত হত্যার দায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

মাইকেল জ্যাকসন শুধু একজন গায়ক ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি সাংস্কৃতিক যুগের প্রতীক। তার সংগীত, নাচ ও সৃজনশীলতা আজও নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করছে। মৃত্যুর পরও তার সৃষ্টি বিশ্বসংগীতের ইতিহাসে তাকে চিরকাল স্মরণীয় করে রেখেছে।