হাসপাতালের বাথরুম পরিষ্কারের দায়িত্ব সাংবাদিকদের দিতে চান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬

দেশের জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোর বাথরুম ও অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব সাংবাদিকদের দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. সৈয়দ আবু আহাম্মদ শাফী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তার এ মন্তব্য নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হলে পরে তিনি পোস্টটি মুছে ফেলেন।

বুধবার (২৪ জুন) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে ডা. শাফী লিখেছিলেন, আন্তঃমন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করে তথ্য মন্ত্রণালয় এবং তাদের অধীন সাংবাদিকদের বাংলাদেশের প্রায় ৬০০ জেলা ও উপজেলা হাসপাতালের বাথরুম, টয়লেট ও ভবনের অভ্যন্তরীণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব অন্তত এক অর্থবছরের জন্য দেওয়া যেতে পারে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, যদি তারা এ দায়িত্ব সফলভাবে পালন করতে পারেন, তাহলে স্থায়ীভাবেও দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রের কল্যাণমূলক কাজ যে ভালোভাবে করতে পারবে, দায়িত্ব তার কাছেই দেওয়া উচিত।

পরে এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ডা. শাফী বলেন, হাসপাতালের বাথরুম ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে যে সমস্যাগুলো রয়েছে, সেগুলো নিয়ে একটি আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করতেই তিনি এমন মন্তব্য করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার পুরো দায় স্বাস্থ্য বিভাগের ওপর চাপানো হলেও বাস্তবে এর সঙ্গে অন্যান্য বিষয়ও জড়িত।

তিনি বলেন, হাসপাতালের অবকাঠামো সম্প্রসারণ, জনবল সংকট এবং ব্যবস্থাপনাগত সীমাবদ্ধতার বিষয়গুলো যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না। অনেক সময় গণমাধ্যমে বিষয়গুলো উপস্থাপনের ক্ষেত্রে পুরো চিত্র উঠে আসে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে সরকারি দায়িত্বে থেকে এ ধরনের মন্তব্য কতটা গ্রহণযোগ্য—এ প্রশ্নে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, সরকারি পদে থেকে এ ধরনের মন্তব্য করার সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে এ বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস-এর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ডা. শাফীর মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই সরকারি কর্মকর্তার এমন বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে অভিহিত করেছেন।