সাতক্ষীরায় জিরো থেকে হিরো মাদক কারবারি হালিম মাস্টার

সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি, রমজান আলী প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬

সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্ত এলাকার আলোচিত ব্যক্তি হালিম মাস্টারকে ঘিরে আবারও নতুন করে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, একসময় হোটেলে সাধারণ কর্মচারী হিসেবে কাজ করা হালিম বর্তমানে বিপুল সম্পদের মালিক। সাতক্ষীরায় তার নামে একাধিক বাড়িসহ কোটি কোটি টাকার সম্পদের তথ্য নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চর্চা চলছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভোমরা এলাকার পুরোনো মাদক ব্যবসায়ী আরশাদ আলী ওরফে ভদুর জামাতা এবং আলোচিত মাদক কারবারি শামিম হোসেনের আত্মীয় হালিম মাস্টারের বিরুদ্ধে ঢাকা ও সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় আটটি মাদক মামলা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তকেন্দ্রিক মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থেকে তিনি বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ভোমরা স্থলবন্দর ও আশপাশের সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক চোরাচালান এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তে নজরদারি জোরদার হলেও মাদক পাচার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বরং নতুন নতুন কৌশলে সীমান্ত পেরিয়ে দেশে মাদকের চালান প্রবেশ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সাতক্ষীরায় পাইকারি ও খুচরা মাদক সরবরাহকারীদের মধ্যে হালিম মাস্টারের নাম অন্যতম। সীমান্তে কঠোর নজরদারি থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন চোরাইপথ ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ মাদক দেশে প্রবেশ করছে। একই সঙ্গে স্বর্ণ পাচারের অভিযোগও রয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, সদর উপজেলার ভোমরা, হাড়দ্দহা, লক্ষ্মীদাড়ি, ঘোষপাড়া ও ঘোনা-গাজীপুর এলাকার বিভিন্ন অননুমোদিত পথ দিয়ে মাদক আনা-নেওয়ার কার্যক্রম চলে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তথ্যানুসারে, ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা কয়েকজন সরবরাহকারীর কাছ থেকে কোরেক্সসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। খুলনা, বরিশাল, ঢাকা, সিলেট ও অন্যান্য এলাকার কয়েকজন ব্যক্তির নামও এই সরবরাহ চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে উঠে এসেছে।

স্থানীয় সূত্র দাবি করে, সন্ধ্যার পর থেকেই সীমান্ত এলাকায় মাদক পারাপারের তৎপরতা বাড়ে। হালিম মাস্টারের নিয়ন্ত্রণে একটি বড় সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় নিয়োজিত একাধিক ব্যক্তি নিয়মিত খুচরা পর্যায়ে মাদক বিক্রি করে থাকে। এসব কর্মীর জন্য মাসিক বেতনের ব্যবস্থাও রয়েছে বলে জানা গেছে।

ভোমরা টাওয়ার মোড় এলাকায় বসবাসকারী হালিম মাস্টার নিজের বাসা থেকেই মাদকের পাইকারি ও খুচরা কার্যক্রম পরিচালনা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে সাতক্ষীরা শহর ও আশপাশে তার চারটি বাড়ি রয়েছে বলেও স্থানীয়দের দাবি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব ও পৃষ্ঠপোষকতায় মাদক ব্যবসা আরও বিস্তৃত হয়। হালিম মাস্টারের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও তিনি কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। মাদক চোরাচালান ও অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পরিবার বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জমি ক্রয়, বহুতল ও আধুনিক বাড়ি নির্মাণসহ তাদের সম্পদের পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।