আন্তর্জাতিক বাজারে টানা তৃতীয় দিনের মতো কমেছে সোনার দাম। ধারাবাহিক দরপতনের ফলে মূল্যবান এই ধাতুর দাম এখন প্রতি আউন্স চার হাজার ডলারের নিচে অবস্থান করছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা ৫৪ মিনিটে স্পট মার্কেটে সোনার দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৮২ দশমিক ৪৯ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে আগস্টে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসের দামও ০ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৯৭ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোনার দামের এই পতনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর নীতিগত অবস্থান বড় ভূমিকা রাখছে। ট্রাডু ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক নিকোস জাবুরাস রয়টার্সকে বলেন, ফেডের কড়া অবস্থান এবং এর ফলে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা সোনার বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
গত সপ্তাহে ফেডের বৈঠকের পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ৬ শতাংশের বেশি কমেছে। এর আগে বুধবার (২৪ জুন) গত বছরের নভেম্বরের পর প্রথমবারের মতো সোনার দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে যায়।
শুধু সোনা নয়, একই সঙ্গে কমেছে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও। আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭ দশমিক ২৬ ডলারে নেমেছে। আর প্লাটিনামের দাম কমেছে ০ দশমিক ৪ শতাংশ, যার ফলে প্রতি আউন্স প্লাটিনামের দাম দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৭১ দশমিক ৯৫ ডলারে।
এদিকে দেশের বাজারে এখনো তুলনামূলক উচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা। ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম প্রতি ভরি ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা, ডলারের মূল্য এবং সুদের হার সংক্রান্ত নীতির ওপর নির্ভর করেই আগামী দিনে সোনার দামের গতিপথ নির্ধারিত হবে।