বিদেশে পাচার হওয়া টাকা ফেরাতে সরকারের নতুন উদ্যোগ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬

ব্যাংক খাতের অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩০টি ব্যাংকের অর্থ পুনরুদ্ধারে ৯টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ শনাক্ত করে তা দেশে ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে গোপনীয়তা চুক্তি (নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট) স্বাক্ষর করা হয়েছে। কাজ সফল হলে নির্ধারিত পারিশ্রমিকের ভিত্তিতে এসব প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অর্থমন্ত্রী জানান, প্রথম ধাপে এস আলম গ্রুপ, সাইফুজ্জামান চৌধুরী, বেক্সিমকো গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ, নাসা গ্রুপ এবং ওরিয়ন গ্রুপ সংশ্লিষ্ট ছয়টি মামলায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো অভিযুক্ত ঋণখেলাপিদের বিদেশে থাকা অর্থ ও সম্পদের অবস্থান শনাক্ত করে তা পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেবে।

সংসদে অর্থপাচার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হয়েছে বলে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অর্থপাচার সাধারণত অত্যন্ত গোপনীয় ও জটিল পদ্ধতিতে সংঘটিত হওয়ায় প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন।

ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, তারল্য সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক জরুরি সহায়তা হিসেবে এখন পর্যন্ত ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি টাকারও বেশি অর্থ সরবরাহ করেছে। এছাড়া চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৭৮ হাজার ২৩৩ দশমিক ৪৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে বলেও জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, রাজস্ব আহরণ বাড়াতে আগামী অর্থবছর থেকে মুদি দোকান, মিষ্টির দোকান, বিউটি পার্লার, রেস্তোরাঁসহ ১৬ ধরনের ব্যবসাকে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল হুন্ডি কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রায় ৫৫ হাজার মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) হিসাব ইতোমধ্যে স্থগিত করা হয়েছে।