লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে এক স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয়রা। ঘটনার প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করে। এতে প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে বিদ্যালয় ছুটির পর ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী বাড়ি ফেরার জন্য স্থানীয় একটি সিএনজিতে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, অন্য শিক্ষার্থীদের না তুলে চালক ওই ছাত্রীকে একাই নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। পথে তাকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব ও হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী জানায়, চালকের আচরণে আতঙ্কিত হয়ে সে গাড়ি থামানোর অনুরোধ করলেও চালক তা উপেক্ষা করে। একপর্যায়ে আত্মরক্ষার জন্য চলন্ত সিএনজি থেকে লাফ দিলে সে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এ সুযোগে অভিযুক্ত চালক পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর পরিবার চন্দ্রগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। তবে অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হওয়ায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন। মানববন্ধনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলামসহ অন্যান্য শিক্ষক বক্তব্য দেন। তারা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানান।
খবর পেয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোরশেদ আলম পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের আশ্বস্ত করে বলেন, অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করলে প্রায় এক ঘণ্টা পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশ এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্ট্যান্ডগুলোতে নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।