ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান সংঘাতে শিশুদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন অনুসন্ধান কমিশন। কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা ও মানবিক সংকট পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) প্রকাশিত জাতিসংঘ কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কারণে গাজার শিশুরা নজিরবিহীন মৃত্যু, আহত হওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি মানসিক আঘাতের মুখোমুখি হচ্ছে।
প্রতিবেদনে কমিশন দাবি করেছে, ফিলিস্তিনিদের জাতিগতভাবে নিশ্চিহ্ন করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের অনুসন্ধান কমিশনের চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসন মুরলিধর বলেন, ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় শিশুরা নিহত ও গুরুতর আহত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী শিশুদের সুরক্ষার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় ব্যাপক হামলা এবং মানবিক ও চিকিৎসা সহায়তা বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে শিশুদের জীবন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও স্বাভাবিক বিকাশ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও প্রজনন চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলার ঘটনাগুলোও নথিভুক্ত করেছে কমিশন।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর সংঘাতের মাত্রা কিছুটা কমলেও শত্রুতা পুরোপুরি শেষ হয়নি। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে ইসরায়েলি হামলায় এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৫০ জনের বেশি শিশু।
শুধু গাজা নয়, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমেও শিশুদের ওপর নির্যাতন, গ্রেপ্তার এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে জাতিসংঘ কমিশন। মানবাধিকার সংস্থা বি’তসেলেমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে ২৩৬ জন ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে।
এদিকে, গাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েল ধীরে ধীরে নিজেদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা সম্প্রসারণ করছে। এর ফলে গাজার বাসিন্দারা আরও সংকুচিত এলাকায় বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন।
জাতিসংঘ কমিশন সতর্ক করে বলেছে, চলমান পরিস্থিতি বিশেষ করে শিশুদের জন্য ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় তৈরি করছে এবং তাদের সুরক্ষায় জরুরি আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।