শ্রীউলা ইউনিয়নের কলিমাখালী গ্রামে দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে ভোগদখলে থাকা খাস জমি জবরদখলের অপচেষ্টা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য প্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বুধবার বিকেলে সংশ্লিষ্ট জমিতে এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন স্থানীয় ভোগদখলকারীরা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ভূমিহীন ভোগদখলকারী সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, কলিমাখালী মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের ১২১৭ ও ১২১৮ দাগের জমিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে গাছপালা রোপণ ও বসতঘর নির্মাণ করে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন। জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক খুঁটি পুঁতে সীমানা নির্ধারণ করে দেন, যা তারা মেনে নেন। তবে পরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সেই খুঁটি সরিয়ে পুনরায় দখলের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সিরাজুল ইসলামের দাবি, প্রতিপক্ষের লোকজন জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ করতে এলে বাধা দেওয়া হলে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তার ছেলে সুমন আহত হন। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ আলী বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে নিরপেক্ষভাবে সীমানা নির্ধারণ করা হলেও পরে সংঘর্ষের সময় সুমনের ওপর হামলা হতে দেখেছেন বলে দাবি করেন।
নবীরন বিবি অভিযোগ করে বলেন, সংঘর্ষে সুমন ও সবুজ আহত হন। আহত সুমনকে প্রথমে আশাশুনি এবং পরে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
তামান্না সুলতানা বলেন, জমিতে ঘর নির্মাণে বাধা দেওয়ায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং তার স্বামী আহত হন। তারা কোনো ধরনের হামলা বা মারপিটে জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে একটি অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে ভিত্তিহীন বলেও উল্লেখ করেন।
মানববন্ধনে উপস্থিত তাছলিমা, সুজন, জিয়াদ, সুমনসহ অন্যরা অভিযোগ করেন, জব্বার ও গফুরের লোকজন জমি দখলের উদ্দেশ্যে ঘর নির্মাণ করতে এলে তারা বাধা দেন। এ সময় তাদের মারধর করা হয়। তারা জমি রক্ষায় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।
নাইম নামের এক ব্যক্তি জানান, ঘটনার ভিডিও ধারণ করার সময় তার মোবাইল ফোন ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় তারা আইনের আশ্রয় নিয়েছেন বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে আশাশুনি থানায় নন-এফআইআর প্রসিকিউশন নং-৬৪/২০২৬, ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৩২৩/৫০৬(২) ধারায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে মানববন্ধনে জানানো হয়।