বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে না পারলেও দ্বিতীয় ম্যাচেই দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন পর্তুগাল অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে দলকে জয়ের পথ দেখানোর পাশাপাশি এক ম্যাচেই গড়েছেন ছয়টি অনন্য রেকর্ড।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেন রোনালদো। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই জোয়াও কানসেলোর নিখুঁত ক্রস থেকে ডান পায়ের শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। এরপর ৩৯ মিনিটে দ্রুতগতির এক পাল্টা আক্রমণ থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা।
এদিন হ্যাটট্রিকের সুযোগও পেয়েছিলেন রোনালদো। তবে শেষ পর্যন্ত জোড়া গোলেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাকে। তবুও এই দুই গোল তাকে পৌঁছে দিয়েছে একের পর এক রেকর্ডের মাইলফলকে।
প্রথমত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি ভিন্ন আসরে (২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬) গোল করার কীর্তি গড়েছেন রোনালদো। এ তালিকায় তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, যিনি পাঁচটি বিশ্বকাপ আসরে গোল করেছেন।
দ্বিতীয়ত, ৪১ বছর ১৩৮ দিন বয়সে গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় বয়োজ্যেষ্ঠ গোলদাতা হয়েছেন তিনি। এ তালিকায় তার ওপরে রয়েছেন কেবল ক্যামেরুনের কিংবদন্তি রজার মিলা। তৃতীয়ত, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ও বিশ্বকাপ মিলিয়ে ১১টি বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে গোল করার নজির আরও সমৃদ্ধ করেছেন রোনালদো। ইউরোপিয়ান ফুটবলারদের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ অর্জন।
চতুর্থত, বিশ্বকাপে পর্তুগালের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে এককভাবে বসেছেন তিনি। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় গোলটির মাধ্যমে স্বদেশি কিংবদন্তি ইউসেবিওকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১০-এ উন্নীত করেন রোনালদো। পঞ্চমত, সবচেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপে এক ম্যাচে জোড়া গোল করার রেকর্ডও এখন তার দখলে। এ ক্ষেত্রে তিনি লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলেছেন।
ষষ্ঠত, বিশ্বকাপে নিজের দেশের সর্বকনিষ্ঠ ও সর্ববয়স্ক গোলদাতা—দুই কীর্তিরই মালিক হয়েছেন রোনালদো। এর আগে ২০০৬ বিশ্বকাপে ২১ বছর ১৩২ দিন বয়সে প্রথম গোল করেছিলেন তিনি। দুই দশক পর ৪১ বছর বয়সে এসে আবারও ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন এই পর্তুগিজ মহাতারকা। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোলের রাতে তাই শুধু জয়ই নয়, রেকর্ডের ঝুলিও আরও সমৃদ্ধ করলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।