মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬

কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে মামলার বাদী জালাল আহমেদ খোকন তালুকদারের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শনিবার জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার বাদী হয়ে থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় মুফতি ফয়জুল করীম ছাড়াও সদর দক্ষিণ এলাকার কাদের মিয়াজীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১৯ জুন বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও ইউটিউব চ্যানেলে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে কটূক্তি, বিদ্রুপ ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়। একটি ইউটিউব ভিডিওতে তার দাড়ি, টুপি ও পোশাক নিয়ে বিদ্রুপ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া একটি ফেসবুক আইডি থেকে সংসদ সদস্যের ছবি ব্যবহার করে তাকে ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগ নেতা’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে পোস্ট করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। এসব বক্তব্যের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে মামলার বাদী জালাল আহমেদ খোকন তালুকদারের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। তিনি নিজেকে কুমিল্লা মহানগর যুবদলের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক দাবি করলেও মহানগর যুবদলের পক্ষ থেকে এ দাবি অস্বীকার করা হয়েছে। কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সদস্যসচিব রোমান হাসান বলেন, জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার যুবদলের কোনো পর্যায়ের সদস্য নন। তিনি অতীতে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

এদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দলের নেতারা এটিকে ‘ফ্যাসিবাদের অপতৎপরতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং আইনগতভাবে বিষয়টি মোকাবিলার কথা জানিয়েছেন। মামলার বাদী জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তিনি যুবদলের কর্মী ও যুগ্ম আহ্বায়ক। বিএনপির সংসদ সদস্যের মানহানি হওয়ায় তিনি মামলা করেছেন। ওসি রকিবুল ইসলাম জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।