পুঠিয়ায় পেঁয়াজের বাজারে ধস, দিশেহারা কৃষক

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় পেঁয়াজের বাজারে ব্যাপক দরপতনে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া, সংরক্ষণে ক্ষতি এবং বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যহ্রাসের কারণে এবার বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন পেঁয়াজ চাষিরা। ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় অনেক কৃষক ঋণের বোঝা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

কৃষকদের অভিযোগ, প্রতিবছর এ সময়ে প্রতি মণ পেঁয়াজ ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হলেও এবার জাতভেদে তা নেমে এসেছে মাত্র ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায়। গত বছরের তুলনায় প্রতি মণে দাম কমেছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা। এতে উৎপাদন খরচ উঠবে কি না, তা নিয়েই শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

পেঁয়াজ চাষিরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করে রাখায় পেঁয়াজ শুকিয়ে ওজন কমে যাচ্ছে। আবার অনেক পেঁয়াজ পচে নষ্ট হচ্ছে। এর পাশাপাশি বাজারে ওজন নিয়েও কারসাজির অভিযোগ তুলেছেন তারা। সব মিলিয়ে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে।

বানেশ্বর হাটে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা কৃষক আব্দুল মমিন বলেন, “এখন এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে মাত্র এক কেজি গরুর মাংস কেনা যায়। পরিবারের জন্য সবজি কিনতেও আরও এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করতে হয়। গত ২০ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম এত কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে।”

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, গত ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এ সময়ে পেঁয়াজের দাম এতটা কম আর দেখা যায়নি। বাজারমূল্য উৎপাদন খরচের নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক কৃষক চরম হতাশ হয়ে পড়েছেন। অনেকেই ব্যাংক ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। ফলে বর্তমান দরপতনে তাদের আর্থিক সংকট আরও বেড়েছে।

পেঁয়াজ ব্যবসায়ী খায়রুল ইসলাম জানান, এবার বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বেশি। প্রচুর উৎপাদন হওয়ায় কৃষকরা ঘরে পেঁয়াজ রাখতে পারছেন না, দ্রুত বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে বাজারে সরবরাহ বেড়ে দাম কমে গেছে। তিনি বলেন, “যার দুই মণ পেঁয়াজ বিক্রি করার কথা, সে পাঁচ মণ বিক্রি করছে। মোকামে বেশি দামে বিক্রি করতে না পারলে আমরাও বেশি দামে কিনতে পারব না।”

কৃষকরা পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং অতিরিক্ত আমদানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। তারা বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছেন।

পুঠিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার বলেন, বাজারে পেঁয়াজের জোগান বেশি থাকায় দাম কমেছে। অনেক কৃষকের পেঁয়াজ পচে নষ্ট হচ্ছে, তাই তারা দ্রুত বিক্রি করছেন। অতিরিক্ত আমদানিও দরপতনের একটি কারণ। তবে কিছুদিন পর বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রাজশাহীর সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. সানোয়ার হোসেন বলেন, রাজশাহীর পুঠিয়া, দুর্গাপুর ও তাহেরপুর এলাকায় ভালো মানের পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। পুঠিয়ায় উৎপাদন খরচ তুলনামূলক বেশি। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সরাসরি দাম নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে না পারলেও কৃষকদের সহায়তায় কাজ করছে। তিনি জানান, পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য ওই তিন উপজেলায় কৃষকদের মাঝে প্রায় ১০০টি সংরক্ষণ ঘর দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে কৃষকরা ভালো দাম পাবেন বলে আশা করছেন তিনি।