লালপুরে জুট মিলে ডাকাতির রহস্য উদঘাটন, আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

লালপুর উপজেলা প্রতিনিধি, শামসুল ইসলাম। প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬

নাটোরের লালপুর উপজেলার অর্জনপুর বরমহাটি ইউনিয়নের শ্রীরামগাড়ী এলাকায় অবস্থিত “সাজিদ জুট মিলস্”-এ সংঘটিত আলোচিত ডাকাতির রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও লালপুর থানা পুলিশ। যৌথ অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৬ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে লুণ্ঠিত মালামালের একটি বড় অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে ১২ থেকে ১৪ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাজিদ জুট মিলে প্রবেশ করে। এ সময় ডাকাতরা মিলের একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারসহ চারজন স্টাফকে মারধর করে তাদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে তাদের হাত-পা ও চোখ-মুখ বেঁধে পৃথক কক্ষে আটকে রাখা হয়।

এরপর ডাকাতরা রাতভর মিলে তাণ্ডব চালায়। তারা ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও কাটার মেশিন ব্যবহার করে ভোর ৪টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ৮৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। পরে ট্রাকযোগে লুট করা মালামাল সরিয়ে নেয় ডাকাত দলের সদস্যরা।

এ ঘটনায় জুট মিলের মালিক সাজিদ মল্লিক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে লালপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি (নং-৪৩, তারিখ: ৩০/০৫/২০২৬) পেনাল কোড ১৮৬০ এর ৩৯৫ ধারায় রুজু করা হয়।

নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ শরীফুল হকের দিকনির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ইফতেখায়ের আলমের তত্ত্বাবধানে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ টিম ও তদন্তকারী কর্মকর্তারা তদন্ত শুরু করেন। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পাবনা জেলার আটঘরিয়া ও সদর থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে ২২ জুন দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে ডাকাত দলের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— পাবনা জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা মাহতাব মৃধা (৩২), লিটন প্রামানিক (৪৬), সেলিম হোসেন (৩২), সাদ্দাম হোসেন (৩৫), আব্দুল খালেক (৩৪) ও সাগর শেখ (২২)।

পুলিশ জানায়, অভিযানে লুণ্ঠিত মালামালের মধ্যে ৩০০ কেজি তামার তার, একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মিনি পিকআপ, একটি ব্যাটারিচালিত চার্জার ভ্যান, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং লুণ্ঠিত মালামাল বিক্রির ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ডাকাত দলের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত অন্যান্য মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।