নওগাঁর মহাদেবপুরে তিন বছরের শিশু নাঈম ও পাঁচ বছরের শিশু আরাফাতের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনার ১০ মাস পর আদালতের নির্দেশে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বিনোদপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে নিহত শিশু নাঈমের লাশ উত্তোলন করা হয়। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ মো. রাশেদ, সিআইডি, থানা পুলিশ ও মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।
নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, এটি পানিতে ডুবে স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাদের দাবি, এক কিশোরীর ওপর নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় প্রতিশোধ নিতে দুই শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৬ জুলাই স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শৌচাগারে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ ও ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। নিহত নাঈমের বড় ভাই নাহিদ ইসলাম সাগর ভিডিও ধারণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর থেকে তাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি স্বজনদের।
নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর সকালে নাঈম ও তার খেলার সাথি আরাফাতকে কৌশলে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয় এবং পরে তাদের লাশ পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। স্বজনরা দাবি করেন, নাঈমের গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। এছাড়া পানিতে ডুবে মৃত্যুর বিষয়টি নিয়েও তাদের সন্দেহ রয়েছে। ঘটনার পর এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ভেজা কাপড়ে দ্রুত এলাকা ছাড়তে দেখা গেছে বলেও দাবি করেন তারা।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর থানায় যোগাযোগ করেও তারা কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাননি। পরে আদালতে মামলা করেন তারা। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। প্রথমে মামলাটি পিবিআই তদন্ত করলেও তদন্ত প্রতিবেদনে অসন্তুষ্ট হয়ে বাদী নারাজি আবেদন করেন। পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার সিআইডিকে দেওয়া হয়। সন্তান হারানো নাঈমের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার সন্তানদের যারা হত্যা করেছে, তাদের বিচার চাই। আমরা গরিব বলে কি আমাদের সন্তানের জীবনের মূল্য নেই?”
লাশ উত্তোলনের ঘটনায় এলাকায় নতুন করে আলোচনা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। নিহত শিশুদের স্বজন ও এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।