কৈশোরে মনের অজান্তে গুনগুন করে গাওয়া গানই আজ জীবনের ধ্যান-জ্ঞান হয়ে উঠেছে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ভঁড়তেঁতুলিয়া গ্রামের সন্তান বাউল শাহিনের। নদী-মাতৃক এই জনপদের মাটির সুর বুকে ধারণ করে তিনি এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দিচ্ছেন বাউল গানের আবেগ ও ঐতিহ্য। বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ (বিটিভি) বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গেয়ে ইতোমধ্যে অর্জন করেছেন ব্যাপক পরিচিতি ও প্রশংসা।
বাউল শাহিন আত্রাই উপজেলার ভঁড়তেঁতুলিয়া গ্রামের মো. আব্দুস সামাদ বাবলুর ছেলে। মা, বাবা, স্ত্রী ও এক পুত্র সন্তান নিয়ে তার পারিবারিক জীবন। সংসারের নানা প্রতিকূলতা ও টানাপোড়েনের মাঝেও সংগীতের প্রতি ভালোবাসা তাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। মাটির গানকে আঁকড়ে ধরে তিনি আজ নিজেকে একজন বাউল শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
সংগীত জগতে শাহিনের পথচলার শুরু হয় কৈশোরেই। ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি ছিল তার গভীর আগ্রহ। পরে স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘রঙধনু একাডেমি’র সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে তার সংগীত চর্চার আনুষ্ঠানিক শুরু হয়। এরপর তিনি সান্নিধ্য পান বাংলাদেশ টেলিভিশনের খ্যাতনামা গীতিকার ও সুরকার আনিসুর রহমান আনিসের। তার হাত ধরেই বাউল শাহিন সংগীতের জগতে নতুনভাবে পথচলা শুরু করেন।
নিজের সংগীত জীবনের কথা বলতে গিয়ে বাউল শাহিন বলেন, “আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষাগুরু আনিসুর রহমান আনিস স্যার আমাকে হাত ধরে সংগীতে এনেছেন। তিনি সহযোগিতা না করলে হয়তো বাউল সাধনা করা সম্ভব হতো না। শুরুতে স্থানীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গাইতাম, তখন বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে অনেক অনুপ্রেরণা পেয়েছি। সংসারের নানা সমস্যায় অনেক সময় মনে হয়েছে সংগীত হয়তো আমার জন্য নয়, কিন্তু গুরুজি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসায় গান আজ আমার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।”
স্থানীয় মঞ্চে গান গাওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হলেও বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিজের কণ্ঠের জাদু ছড়িয়ে দিচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি তার সংগীত জীবনে বড় অর্জন হিসেবে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘রঙের বাজার’-এ গান গাওয়ার সুযোগ। দেশের খ্যাতনামা সংগীত সম্পাদক হাসান মতিউর রহমানের গ্রন্থনা ও উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটিতে গান গেয়ে প্রশংসিত হয়েছেন তিনি।
নিজের অনুপ্রেরণার কথা স্মরণ করে বাউল শাহিন বলেন, “আমার সংগীতে আসার পেছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ও ভালোবাসা দিয়েছেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি বাউল শিল্পী রিঙ্কু কাকা। তার প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ।” বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলে তার অনুষ্ঠান নিয়ে আলোচনা চলছে। আত্রাইয়ের এই কৃতি সন্তান ভবিষ্যতে বাউল গানকে আরও সমৃদ্ধ ও জনপ্রিয় করতে চান। নিজের সুরের যাত্রা অব্যাহত রাখতে তিনি দেশবাসীর ভালোবাসা, দোয়া ও শুভকামনা কামনা করেছেন।