মালয়েশিয়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তারেক রহমানকে গার্ড অব অনার

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করেছে মালয়েশিয়া।

স্থানীয় সময় সোমবার (২২ জুন) সকাল সোয়া ৯টায় মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ার Perdana Putra ভবন প্রাঙ্গণে এ আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা প্রদান করা হয়। এ সময় তাকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

গার্ড অব অনারের পর দুই দেশের সরকারপ্রধান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পঞ্চম তলায় একান্ত বৈঠকে বসেন। পরে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিয়ে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উভয় পক্ষ নিজ নিজ দেশের নেতৃত্ব দেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান, বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আল সিয়ামসহ অন্যান্যরা।

দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, জনশক্তি রপ্তানি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি, শিক্ষা এবং জন-যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে এবং বিদেশি বিনিয়োগের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের আস্থা, সহযোগিতা ও পারস্পরিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। অতীতের ঐতিহাসিক সফর ও শ্রম সহযোগিতার ধারাবাহিকতা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, যৌথ কমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশের যোগাযোগ আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইসিটি, জ্বালানি, অবকাঠামো, হালাল শিল্প, কৃষি, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা এবং ডিজিটাল অর্থনীতিসহ বিভিন্ন উচ্চমূল্যের খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিক ও পেশাজীবীরা দুই দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।