বিচারাঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র খন্দকার মো. আছাদুজ্জামান

মুকসুদপুর প্রতিনিধি, মিরান গাজী   প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬

খন্দকার মো. আছাদুজ্জামান বাংলাদেশের বিচারাঙ্গনের একজন অভিজ্ঞ, সুনামধন্য ও ন্যায়নিষ্ঠ বিচারক হিসেবে দীর্ঘ ৩৪ বছরের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে দায়িত্ব পালন করেছেন। সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের জন্য তিনি বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও সহকর্মীদের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

১৯৬৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার খান্দারপাড়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে তাঁর জন্ম। নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধে বেড়ে ওঠা এই ব্যক্তিত্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএল.বি (অনার্স) ও এলএল.এম ডিগ্রি অর্জনের পর ১০ম বিসিএসের মাধ্যমে ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসে যোগদান করেন।

কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ফরিদপুর, বরিশাল, বরগুনা, ঝালকাঠি ও হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় সহকারী জজ ও সিনিয়র সহকারী জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে যশোর, খুলনা ও নওগাঁয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

কর্মজীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি কুষ্টিয়া, ঠাকুরগাঁও, বরগুনা, পাবনা, রাজশাহী ও ঢাকায় জেলা ও দায়রা জজ এবং সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শেষ কর্মস্থল ছিল ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত, যেখানে তিনি আলোচিত মামলাগুলোর বিচার পরিচালনায় দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি ২০১৪ সালে “খন্দকার ফাউন্ডেশন” প্রতিষ্ঠা করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ শুরু করেন। এছাড়া বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ আইন সমিতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

নিজ গ্রামের উন্নয়নেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর উদ্যোগে প্রায় ৫ কিলোমিটার রাস্তা পাকা হয়, যা এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনে। পাশাপাশি মসজিদ, কবরস্থান ও সেতু নির্মাণসহ বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রমে তাঁর অবদান রয়েছে।

ধর্মীয় ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তিনি বিভিন্ন জেলায় কোর্ট মসজিদ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং নিজ গ্রামের মসজিদের উন্নয়ন, পাঠাগার স্থাপন ও ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

পারিবারিক জীবনে তিনি চার সন্তানের জনক। তাঁর বড় পুত্র সিভিল সার্ভিসে কর্মরত, কন্যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত এবং কনিষ্ঠ পুত্র উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী।

দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষে ২০২৪ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। সততা, ন্যায়বোধ, মানবিকতা ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ তাঁর জীবন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত হবে।