টানা দুই দফা মূল্যহ্রাসের পর দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) সকালে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। নতুন মূল্য একই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনা বা পিওর গোল্ডের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সোনার নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে সব ধরনের সোনার দামই বেড়েছে।
নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেট সোনার দাম ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬০৬ টাকা।
বাজুস আরও জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে স্বর্ণালঙ্কারের নকশা, কারুকাজ ও মজুরি আলাদাভাবে যোগ হবে। এছাড়া অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভ্যাট আদায় করা যাবে না।
এর আগে গত ২০ জুন সোনার দাম সমন্বয় করে প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমানো হয়েছিল। সে সময় ২২ ক্যারেট সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৪০ টাকা। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে সেই দাম আবারও বেড়ে নতুন রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে সোনার দাম ৭৯ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ বার দাম বেড়েছে, ৩৮ বার কমেছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। অন্যদিকে ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার সোনার দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বৃদ্ধি এবং ২৯ বার হ্রাস পেয়েছিল।
এদিকে রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। বর্তমানে ২২ ক্যারেট রুপা প্রতি ভরি ৫ হাজার ২৪৯ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ১৬ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ২০৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চলতি বছরে রুপার দাম ৪৭ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ বার দাম বেড়েছে এবং ২৩ বার কমেছে বলে জানিয়েছে বাজুস।