কিউবার বিপ্লবের অন্যতম প্রধান নেতা এবং দেশটির সাবেক রাষ্ট্রপতি রামিরো ভালদেস মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। রয়টার্সের প্রতিবেদনের বরাতে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল রোববার (২১ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। তবে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
১৯৩২ সালে জন্ম নেওয়া রামিরো ভালদেস কিশোর বয়স থেকেই কিউবার তৎকালীন স্বৈরশাসক ফুলজেনসিও বাতিস্তার বিরুদ্ধে আন্দোলনে যুক্ত হন। ১৯৫৩ সালে ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে পরিচালিত ঐতিহাসিক মনকাডা ব্যারাক আক্রমণে তিনি অংশ নেন।
পরবর্তীতে নির্বাসন শেষে ১৯৫৬ সালে কিউবার বিপ্লব পুনরায় শুরু করার লক্ষ্যে ‘গ্রানমা’ নৌকায় করে দেশে ফিরে আসা ৮২ জন বিপ্লবীর একজন ছিলেন রামিরো ভালদেস। ওই অভিযানের পর ভয়াবহ সংঘর্ষে অল্প কয়েকজন বিপ্লবী টিকে থাকেন। তাদের মধ্যে ছিলেন রাউল কাস্ত্রো, চে গুয়েভারা এবং রামিরো ভালদেস।
এরপর সিয়েরা মায়েস্ত্রা পাহাড়ে গেরিলা যুদ্ধে তিনি চে গুয়েভারার ডেপুটি কমান্ডার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৫৯ সালে ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে বিপ্লব সফল হওয়ার পর নতুন সরকারের নিরাপত্তা কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান তিনি।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে রামিরো ভালদেস কিউবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী, তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রী এবং উপ-প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তিনি কিউবার কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্যও ছিলেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি কিউবার জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছিলেন। দেশটির জনগণকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানাতেন তিনি।
কিউবার রাজনৈতিক ইতিহাসে রামিরো ভালদেস ছিলেন বিপ্লবের প্রথম সারির একজন সংগঠক ও গুরুত্বপূর্ণ মুখ। তার মৃত্যুতে কিউবার বিপ্লবী যুগের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়ের অবসান ঘটল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।