ইউটিউবে লাইভস্ট্রিম করা একটি কনসার্টে অংশ নেওয়ার ঘটনায় ইরানি সংগীতশিল্পী পারাস্তু আহমাদি এবং তার প্রযোজনা দলের আট সদস্যকে ৭৪টি করে দোররা মারার সাজা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। একই সঙ্গে শিল্পীর ওপর দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা এবং বিদেশ ভ্রমণেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
২০২৪ সালে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে সম্প্রচারিত এক লাইভ কনসার্টে দেশাত্মবোধক গান ‘আজ খুনে জাভানানে ওয়াতান’ পরিবেশন করেন ২৯ বছর বয়সী পারাস্তু আহমাদি। কনসার্টে তিনি হিজাব ছাড়া উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানটির ভিডিও দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
তবে ইরানের একটি আদালত ওই কনটেন্টকে ‘অশ্লীল ও অনৈতিক’ আখ্যা দিয়ে শিল্পী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। গান প্রকাশের কিছুদিন পর পারাস্তু আহমাদি এবং তার কয়েকজন সহশিল্পীকে আটক করা হয়। পরে তারা মুক্তি পেলেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা চলতে থাকে। সাম্প্রতিক রায়ে আদালত শিল্পী ও তার দলের আট সদস্যকে ৭৪টি করে দোররা মারার নির্দেশ দিয়েছে।
এ ছাড়া পারাস্তু আহমাদিকে দুই বছরের জন্য সাংস্কৃতিক কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং তার দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর প্রতিবেদনের পর বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও সংস্কৃতিকর্মীরা এ রায়ের তীব্র সমালোচনা করে বলছেন, এটি কেবল একটি আইনি সিদ্ধান্ত নয়; বরং শিল্প ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর কঠোর হস্তক্ষেপের উদাহরণ।
ইরানি-ব্রিটিশ অভিনেত্রী নাজানিন বোনিয়াদি, নির্বাসিত ইরানি অভিনেত্রী সেতারেহ মালেকিসহ বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব এই রায়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
ইরানি অ্যাক্টিভিস্টদের আইনি সহায়তাদানকারী সংস্থা ‘দাদবান’-এর মানবাধিকার আইনজীবী মইন খাজায়েলি বলেন, ইরানের প্রচলিত আইনে নারীদের গান গাওয়া বা সংগীত পরিবেশনকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। তাই এসব কর্মকাণ্ডকে ‘অশ্লীল কনটেন্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করা আইনের অপপ্রয়োগ।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস ইন ইরান’-এর অ্যাডভোকেসি পরিচালক বাহার ঘান্দেহারি বলেছেন, শুধুমাত্র গান গাওয়া এবং হিজাব ছাড়া উপস্থিত হওয়ার কারণে একজন শিল্পীকে ৭৪ দোররার সাজা দেওয়া অত্যন্ত কঠোর ও উদ্বেগজনক। এ ঘটনা ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।