দেশে হামের টিকা কার্যক্রমে ঘাটতির জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের গাফিলতিকেই দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে আলাদা তদন্তের প্রয়োজন নেই। পরিস্থিতির জন্য দায়ীদের কীভাবে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে, সে বিষয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে।
রোববার (২১ জুন) ইউরোপ সফর শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, “এখানে তদন্তের কী আছে? অপারেশনাল প্ল্যান (ওপি) বাদ দিয়ে বিষয়টি ডিপিপিতে (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল) স্থানান্তর করা হয়েছিল। তখন হয়তো ধারণা করা হয়েছিল, এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই ডিপিপি অনুমোদন হয়ে যাবে এবং প্রয়োজনীয় অর্থ পাওয়া যাবে। কিন্তু বাস্তবে এক বছরেও অনেক ডিপিপির প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়নি।”
তিনি বলেন, ডিপিপিগুলোর কারিগরি অনুমোদন ও প্রকল্প প্রণয়নের কাজ সময়মতো সম্পন্ন না হওয়ায় স্বাভাবিক অর্থপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে স্বাস্থ্যখাতে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব এখনো জাতিকে বহন করতে হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী আরও বলেন, শুধু টিকাদান কর্মসূচিই নয়, পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রীও দেশের বিভিন্ন স্থানে সংকটে রয়েছে। এসব পণ্য দ্রুত সংগ্রহ এবং ঘাটতি পূরণে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
তিনি জানান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসামগ্রী দ্রুত সংগ্রহের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, “আজ আমি যখন কথা বলছি, তখন মন্ত্রী ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে ইউনিসেফের সাপ্লাই ডিভিশনের সদর দপ্তরে অবস্থান করছেন। সেখানে আমাদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসামগ্রী ও অন্যান্য জরুরি পণ্য দ্রুত সংগ্রহের বিষয়ে আলোচনা চলছে। ঘাটতি পূরণে আমরা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছি।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় টিকা ও স্বাস্থ্যসামগ্রী সংগ্রহ করে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় সৃষ্ট সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।