মুন্সিগঞ্জে চালু হলো দেশের প্রথম ‘ক্যাশলেস কারাগার’

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

আধুনিক কারা ব্যবস্থাপনার নতুন যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ। দেশের প্রথম ‘ক্যাশলেস কারা ব্যবস্থাপনা’ চালু হয়েছে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে। প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বন্দিদের আর্থিক লেনদেন, অবস্থান শনাক্তকরণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আনা হয়েছে যুগান্তকারী পরিবর্তন।

রোববার (২১ জুন) সকালে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ এনায়েত উল্ল্যাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নতুন ব্যবস্থার আওতায় কারাগারের ভেতরে বন্দিদের সব ধরনের আর্থিক লেনদেন সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও নগদ টাকাবিহীন করা হয়েছে।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, এই ব্যবস্থায় রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বন্দিদের অবস্থান সহজেই নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল পদ্ধতিতে বন্দিদের নির্ভুল গণনা, তদারকি এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বন্দিদের আত্মীয়স্বজন কারাগারে এসে যে অর্থ জমা দেবেন, তা সরাসরি বন্দির নির্ধারিত ভার্চুয়াল হিসাবে যুক্ত হবে। পরে বন্দিরা তাদের জন্য বরাদ্দকৃত বিশেষ পরিচয় কার্ড ব্যবহার করে কারা ক্যান্টিন থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও অন্যান্য পণ্য ক্রয় করতে পারবেন। ফলে কারাগারের ভেতরে বন্দি ও কর্মীদের মধ্যে কোনো ধরনের নগদ অর্থের লেনদেন থাকবে না।

কারা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে গ্রহণ করা অর্থ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হিসাবভুক্ত করার পর ব্যাংকে জমা করবেন। এরপর সংশ্লিষ্ট বন্দির ভার্চুয়াল হিসাবে সমপরিমাণ অর্থ যুক্ত হবে। বন্দিরা কার্ডের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে মূল্য পরিশোধ করে সেবা গ্রহণ করবেন। কোনো বন্দি জামিনে মুক্তি পাওয়ার সময় তার হিসাবে অর্থ অবশিষ্ট থাকলে তা মোবাইল ব্যাংকিং বা অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হবে।

কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, এই উদ্যোগের ফলে কারাগারের ভেতরে অর্থসংক্রান্ত অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধ লেনদেনের সুযোগ কমে আসবে। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং বন্দিদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল Syed Motaher Hossain-এর পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে ডিকোড ল্যাব এবং কারা অধিদপ্তরের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সেল। জেল সুপার মোহাম্মদ এনায়েত উল্ল্যাহ বলেন, “মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারকে মানবিক, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের অংশ হিসেবে দেশের প্রথম ক্যাশলেস কারাগার চালু করা হয়েছে। সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য কারাগারেও এই মডেল বাস্তবায়ন করা হতে পারে।”